‘আমি শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত নায়িকা তানহা তাসনিয়া। চিত্রনায়ক নিরবের বিপরীতে রফিক শিকদার পরিচালিত ‘ভোলা তো যায় না তারে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পর্দায় পা রাখেন তিনি। তারপর অভিনয় করেন শফিক হাসান পরিচালিত ‘ধূমকেতু’ চলচ্চিত্রে। তানহা অভিনীত নির্মাণাধীন চলচ্চিত্র হচ্ছে জাকির হোসেন রাজুর ‘ভালো থেকো’। সম্প্রতি এ নায়িকা ঘুরে এসেছেন কলকাতা থেকে, ফেসবুকে চেকইন দিয়েছেন সেখানকার একটি নামি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে। বিডি২৪লাইভ’র সাথে কলকাতা ভ্রমণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়েছে এ নায়িকার। আলাপের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

: কলকাতা যাওয়ার উদ্দেশ্যে কি? শুধুই ঘোরাঘুরি?
: ঘোরাঘুরি তো ছিলই। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই কলকাতা যাওয়ার প্ল্যান চলছিল, কিছু মিটিংয়ের ব্যাপারে। সময় সুযোগের অভাবে যাই যাই করে যাওয়া হচ্ছিল না। এবার সুযোগ পেয়েছি, চিন্তা করলাম যাই ঘুরে আসি। কাজগুলোও সেরে আসি।

: কলকাতার একটি বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অফিসে চেক ইন দিয়েছিলেন? কোন কিছুর আগাম পূর্বাভাস?
: পূর্বাভাস বলতে পারেন। হা হা হা। পহেলা বৈশাখের একটা প্রজেক্টের প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। সবকিছু ফাইনাল হলে অবশ্যই জানাব।

: ‘রইস’ দেখলেন কলকাতার হলে? কেমন লাগল?
: প্ল্যান করেই সাউথ সিটির আইনক্সে দেখেছি। অনেক ভাল লেগেছে। দুইটি ছবি দেখেছি, ‘রইস’ আর ‘বিবাহ ডায়েরি’। আমি তো শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত। তবে এবারই প্রথম হলে বসে শাহরুখ খানের ছবি দেখেছি। এটার একটা এক্সসাইটমেন্ট ছিল। শাহরুখ খান যে সব ধরনের ক্যারেকটার প্লে করতে পারে তারই প্রমাণ পাওয়া গেল এই ছবিটি থেকে।

: কলকাতার সিনেমা হলের পরিবেশ কেমন লাগল?
: হলের পরিবেশ অনেক ভাল লেগেছে। ভেতরে পরিবেশ, সাউন্ড, স্ক্রীন সব মিলিয়ে বেশ ভাল।

: ঢাকার সিনেমা হল আর কলকাতার সিনেমা হলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
: কলকাতার হলের স্ক্রীন আমাদের থেকে অনেক ভাল মনে হয়েছে আমার কাছে।

: কলকাতায় বসন্তের উপহার পেয়েছিলেন, কে দিয়েছে?
: অবশ্যই ভালবাসা মানুষ। আমার পছন্দের মানুষই আমাকে বসন্তের উপহার দিয়েছিল, হা হা হা। ভ্যালেন্টাইন ডে আর পহেলা ফাল্গুন দুইটির উপহারই পেয়েছি, হা হা হা।

: কলকাতার কোন ডিরেক্টর বা প্রোডিউসার উপহার দেয়নি?
: হা হা হা, উনারও দিয়েছে। সেই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেইনি। স্পেশাল মানুষেরটাই দিয়েছি।

: উনার সাথে (স্পেশাল মানুষ) আলাপ কিভাবে?
: সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ওর সাথে আমার পরিচয়। আপাতত এর বেশি কিছু জানাব না, হা হা হা।

: কলকাতায় কাজের প্ল্যান করছেন?
: এখন তো শিল্পীরা এপার ওপার করছে। সে হিসেবেই আমার প্ল্যান কলকাতায় কিছু কাজ করার। আমি মনে করি শিল্পীদের কোন গণ্ডি রাখা উচিত না। ওরা এপার বাংলায় কাজ করছে, আমরাও ওপার বাংলায় কাজ করব। তাহলেই হবে টিট ফর ট্যাট, হা হা হা।

: শুধুই কর্মাশিয়াল নাকি আর্ট ফিল্ম বা অফ ট্র্যাক ফিল্ম করারও ইচ্ছা আছে?
: কর্মাশিয়াল ফিল্ম কলকাতায় করার প্ল্যান নেই। অফ ট্র্যাক ফিল্ম করারই ইচ্ছা রয়েছে।

: অফ ট্র্যাক ফিল্মের জন্য আপনি নিজেকে কতটুকু প্রস্তুত করেছেন?
: আমি শতভাগ চেষ্টা করব নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। ক্যারেক্টার ফুটিয়ে তোলার জন্য অবশ্যই গ্রুমিং করব।

: শহর হিসেবে কলকাতাকে কত দিবেন? আর ঢাকাকে কত?
: নিজের দেশ হিসেবে ঢাকাকে এগিয়ে রাখব। ঢাকা আর কলকাতার মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তবে কলকাতায় দুইটি জিনিস ভাল লেগেছে। প্রথমত ওদের ট্রাফিক ব্যবস্থা। কলকাতার রাস্তায় জ্যাম নেই- এটা তো আমি ভাবতেই পারিনি। আর দ্বিতীয়ত হলো কলকাতা শহরটা খুব সাজানো মনে হয়েছে আমার কাছে।

: বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
: ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘ভালো থেকো’ ছবির শেষ অংশের কাজ শেষে করব। মার্চের শুরুতে গানের শুট্যিংয়ে নেপাল যাওয়ার কথা রয়েছে। তারপর ‘ভালো থেকো’র ডাবিং। আর পহেলা বৈশাখের কাজের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে।

: পাঠকের উদ্দেশ্যে বলুন-
: আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আপনাদের ভাল ভাল ছবি উপহার দিতে পারি। আর আপনারা হলে গিয়ে বেশি বেশি বাংলা ছবি দেখুন। তাহলে হলের পরিবেশ ভাল হবে, আমাদের ছবিগুলোও ভাল হবে।

: তানহা, ধন্যবাদ আপনাকে। সময় দেওয়ার জন্য।
: আপনাকেও ধন্যবাদ। সাথে বিডি২৪লাইভকেও ধন্যবাদ।

Share Button