নাসিরের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং

আরও ধারাল হয়ে ফিরেছেন নাসির হোসেন। টানা তিন ম্যাচে হারা দলকে জয়ে ফেরাতে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। অধিনায়কের মতো জ্বলে উঠেছেন তরুণ পেসার আবু হায়দার। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

এই দুই জনের নৈপুণ্যে উড়ে গেছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। সুপার লিগের ম্যাচে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে হেরেছে ১৭৭ রানের বড় ব্যবধানে।

জাতীয় দলের হয়ে আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে অপরাজেয় এক গাজীকে রেখে গিয়েছিলেন নাসির। পরের পাঁচ ম্যাচে ধারা ধরে রেখেছিল দল। এরপর হঠাৎ ছন্দপতন, টানা তিন ম্যাচ হেরে এগিয়ে থাকার সুবিধা হারিয়েছে দলটি।

আয়ারল্যান্ডে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছে নাসিরের। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জেতা সেই ম্যাচে ব্যাটিং করতে হয়নি তার। লিগে ছিলেন দারুণ ছন্দে, লম্বা বিরতির পর ফিরে যেন শুরু করলেন ঠিক সেখান থেকেই।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ৩৫০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে গাজী। শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি তাদের। ১ রান করেই ফিরে যান এনামুল হক।

দ্বিতীয় উইকেটে তরুণ মুনিম শাহরিয়ারের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন মুমিনুল হক। বাঁহাতি এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরেন অর্ধশতকে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর। ৬১ বলে খেলা তার ৬৬ রানের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও একটি ছক্কায়।

মুমিনুলের পর জহুরুল ইসলামের দ্রুত বিদায় চাপে ফেলে দেয় দলকে। ১৩৭ রানে নেই ৪ উইকেট। সেখান থেকে দলকে সাড়ে তিনশ রানের বিশাল সংগ্রহ এনে দেন নাসির ও গুরকিরাত সিং। দুই জনে ২১.৩ ওভারে গড়েন ১৪৭ রানের চমৎকার এক জুটি।

পারভেজ রসুলের জায়গায় খেলতে আসা গুরকিরাত ফিরেন ৭৪ রান করে। তার ৬০ বলের ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৯টি চারে।

৪৯তম ওভারে মাঠ ছাড়েন নাসির। ততক্ষণে নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ১৩৪ রান। এক আসরে দ্বিতীয়বার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। প্রথম পর্বে মোহামেডানের বিপক্ষে খেলা অপরাজিত ১০৬ রান ছিল তার আগের সেরা।

নাসিরের অধিনায়কোচিত ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায়। চমৎকার এই ইনিংসে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
জবাবে ৩৮.১ ওভারে ১৭৩ রানে অলআউট হয়ে যায় শেখ জামাল।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় কখনও জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি দলটি। অর্ধশতক পর্যন্তও পারেননি কেউ। পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি মোটে একটি।

বাঁহাতি পেসার হায়দারের দারুণ বোলিংয়ে ২৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে শেখ জামাল। রান তিন অঙ্কে যাওয়ার আগেই দলটি হারিয়ে ফেলে ৬ ব্যাটসম্যানকে।

জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজিন সালেহর ৫৯ রানের জুটিতে খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে শেখ জামাল। চার বলের মধ্যে জিয়া, ইলিয়াস সানি ও মাহমুদুল হককে ফিরিয়ে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান হায়দার। ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে তিনিই দলের সেরা বোলার।

রাজিন সালেহকে আউট করে সুপার লিগে দলের প্রথম জয় নিশ্চিত করেন হোসেন আলী। গাজীর ভারতীয় অলরাউন্ডার গুরকিরাত ২ উইকেট নেন ২৭ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স: ৫০ ওভারে ৩৫০/৫ (এনামুল ১, মুনিম ৩৫, মুমিনুল ৬৬, নাসির ১৩৪* আহত অবসর, জহুরুল ৬, গুরকিরাত ৭৪, শুভ ১৭*, হায়দার ৩*; শাহাদাত ০/৩৮, জিয়া ২/৫৬, সোহাগ ১/৭৫, সানি ২/৬১, মাহমুদ ০/২৯, তানবীর ০/৪০, চোপড়া ০/১৯, আল মামুন ০/৩১)

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব: ৩৮.১ ওভারে ১৭৩ (মাহমুদ ৭, চোপড়া ৩৭, মাহবুবুল ১, সোহাগ ০, আল মামুন ২৫, তানবীর ১৭, জিয়া ৪৬, রাজিন ২৫, সানি ০, মাহমুদুল ০, শাহাদাত ৯*; হায়দার ৬/৩৫, মেহেদী ০/১৫, হোসেন ১/২৮, গুরকিরাত ২/২৭, শুভ ১/৩৪, নাঈম জুনিয়র ০/৩১)

ফল: গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৭৭ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাসির হোসেন
post:azher

Share Button