কুরআন ও হাদীসের আলোকে সুখী হওয়ার ১২ টি চাবি

১/ আজকের জন্য বাঁচুন; কেননা ‘আগামীকাল’ এখনো জন্মই নেয়নি।
“সকালে জেগে উঠলে বিকেল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা রেখো না। এবং বিকেলে বেঁচে থাকলে সকালে জেগে উঠার আশা রেখো না।”
(সহীহ আল-বুখারী)
.
২/ অন্তরে শান্তি পাচ্ছেন না? তাহলে আল্লাহকে বারবার স্মরণ করুন।
“যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। জেনে রেখো, অন্তর আল্লাহর স্মরণেই প্রশান্তি লাভ করে।”
(সূরা রাদ, ২৮)
.
৩/ উত্তম উপদেশ আপনার জন্য কল্যাণকর; যদিও তা কখনো তিক্ত মনে হয়, তাকে ছুটে যেতে দেবেন না।
“এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের ছয়টি অধিকার রয়েছে”(তার একটি হচ্ছে)”যখন সে কোনো উপদেশ চায়, তাকে উপদেশ দাও।”
(সহীহ মুসলিম)
.
৪/ আপনি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করলে জীবনে কষ্ট-ক্লেশের জন্যও প্রস্তুত থাকুন।
“পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরষ্কার তত বড় হয়। আর আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরীক্ষায় ফেলেন, যাদের তিনি ভালোবাসেন।”
(আত-তিরমীযি)
.
৫/ অন্যের ধন্যবাদ আশা করবেন না। নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যান।
“(তারা বলে)শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে অন্নদান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।”
(সূরা আল-ইনসান, ৯)
.
৬/ মনে রাখবেন, মানুষ যা আশংকা করে ভীত হয়, তার অধিকাংশই ঘটে না।
“ঐ তো শয়তান; যে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়..”
(সূরা আলি ইমরান, ১৭৫)
.
৭/ কখনো ভুলে যাবেন না,আপনার পাপের তুলনায় আল্লাহর দয়া এবং ক্ষমা করার সামর্থ্য অনেক বেশী।
“নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক অপরিসীম ক্ষমাশীল।
(সূরা আন-নাজম, ৩২)
.
৮/ বিশ্বাস রাখুন, আপনি যদি খাটি মুমিন হয়ে থাকেন দিন শেষে আপনিই হবেন বিজয়ী।
“মুমিনের বিষয়টা কতই না আশ্চর্যজনক! তার সাথে যাই ঘটে, কেবল কল্যাণই বয়ে আনে।
(সহীহ মুসলিম)
.
৯/ আপনার রিজিক মানুষের হাতে নয়- এই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন এবং নির্ভয়ে কাজ করে যান। ঈমান রাখুন এই বাক্যে,
“আকাশে রয়েছে তোমাদের রুযী ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।”
(সূরা আয-যারিয়াত, ২২)
.
১০/ ভাল কাজে সদা ব্যস্ত থাকুন, কেননা অলস সময় নিকৃষ্ট শত্রু।
“অতএব যখনই অবসর পাও, তখনই (আল্লাহর ইবাদতে) সচেষ্ট হও”
(সূরা আশ-শাহর, ৯৪: ৭)
.
১১/ জেনে রাখুন, যার ওপর আপনি তীব্রভাবে বিরক্ত, ক্রোধান্বিত; তার চেয়ে আপনাকেই বেশী ভোগাবে এই বিরক্তি।
“ইয়া আল্লাহ! ..আমার অন্তর থেকে আক্রোশ দূর করে দিন”
(আত-তিরমীযি)
.
১২/ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং নেক আমল করতে থাকা- এ হচ্ছে সুখ লাভের পরশপাথর।
“পুরুষ ও নারী যে কেউই বিশ্বাসী হয়ে সৎকর্ম করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদের কর্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার তাদেরকে দান করব।”
(সূরা আন-নাহল, ৯৭)
.
আপনাকে বলা হচ্ছে না এগুলো মুখস্থ করতে, বরং সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করুন। কেননা প্রত্যহ জীবনে সুখ লাভের জন্য এগুলো আমাদের সবার প্রয়োজন। বারবার প্রয়োজন।
.
[শায়খ আলী হাম্মুদা (হাফি.) পেইজ থেকে অনূদিত]

চিন্তা দূর করতে যে দোয়া পড়বেন

চিন্তা মানুষের সব শান্তিকে মাটি করে দেয়। স্বাভাবিক জীবন-যাপনকে বাধাগ্রস্ত করে তোলো। মানুষ বিভিন্ন কারণে চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়ে। তা হতে পারে দুনিয়ার পেরেশানি কিংবা শত্রুর দুশমনির কারণে।

আবার আল্লাহর প্রিয়বান্দারা অন্যায় করে ফেললে সে পেরেশানিতেও দুঃশিন্তাগ্রন্ত হয়ে পড়ে। দুনিয়ার সব চিন্তা ও পেরেশানি থেকে মুক্ত থাকতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত একটি দোয়া পড়তেন। আর তাহলো-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিন্তাযুক্ত অবস্থায় বলতেন-
Doa-Small
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল আ’ঝযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুব্‌নি ওয়াল বুখলি ওয়া দ্বলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রজিাল।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে থেকে চিন্তা, শোক, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল করার মাধ্যমে চিন্তামুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কুরআনে বর্ণিত ১০০ টি উপদেশবাণী , বার বার স্মরণ করুন।

১। তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২]

২। সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪]

৩। পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০]

৪। কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪]

৫। কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০]

৬। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭]

৭। ঘুষে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮]

৮। যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০]

৯। লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১]

১০। অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো।
[সূরা বাকারা ২:২২০]

১১। রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না।
[সূরা বাকারা ২:২২২]

১২। শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধ পান করাও।
[সূরা বাকারা ২:২৩৩]

১৩। সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো।
[সূরা বাকারা ২:২৪৭]

১৪। দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।
[সূরা বাকারা ২:২৫৬]

১৫। প্রতিদান কামনা করে তোমার দান বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪]

১৬। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো।
[সূরা বাকারা ২:২৭৩]

১৭। সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫]

১৮। যদি ঋণী অভাবগ্রস্ত হয় ,তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০]

১৯। ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২]

২০। আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]

২১। কারো গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩]

২২। সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো।
[সূরা বাকারা ২:২৮৫]

২৩। সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬]

২৪। তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
[সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩]

২৫। ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪]

২৬। রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না।
[সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯]

২৭। এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১]

২৮। পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃত কর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫]

২৯। মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭]

৩০। উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে।
[সূরা নিসা ৪:৭]

৩১। এতীমদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না।
[সূরা নিসা ৪১০]

৩২। যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক আছে, তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩]

৩৩। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯]

৩৪। পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪]

৩৫। অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬]

৩৬। কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭]

৩৭। বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪]

৩৮। মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮]

৩৯। একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২]

৪০। বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না।
[সূরা নিসা ৪:১০৫]

৪১। ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫]

৪২। সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো।
[সূরা মায়িদা ৫:২]

৪৩। সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২]

৪৪। মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ।
[সূরা মায়িদা ৫:৩]

৪৫। সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮]

৪৬। অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।
[সূরা মায়িদা ৫:৩৮]

৪৭। পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩]

৪৮। মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো।
[সূরা মায়িদা ৫:৯০]

৪৯। জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০]

৫০। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮]

৫১। আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়।
[সূরা আন’আম ৬:১১৬]

৫২। মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২]

৫৩। অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩]

৫৪। পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না।
[সূরা আ’রাফ ৭:৩১]

৫৫। সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো।
[সূরা আ’রাফ ৭:৩১]

৫৬। অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো।
[সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯]

৫৭। যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না।
[সূরা আনফাল ৮:১৫]

৫৮। যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬]

৫৯। পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮]

৬০। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭]

৬১। যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]

৬২। প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বান করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯]

৬৩। কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না।
[সূরা ইসরা ১৭:১৫]

৬৪। পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
[সূরা ইসরা ১৭:২৩]

৬৫। পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩]

৬৬। অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯]

৬৭। দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১]

৬৮। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না।
[সূরা ইসরা ১৭:৩২]

৬৯। যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬]

৭০। শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪]

৭১। অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো।
[সূরা মু’মিনুন ২৩:৩]

৭২। অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না।
[সূরা নূর ২৪:২৭]

৭৩। যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫]

৭৪। বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮]

৭৫। বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো।
[সূরা ফুরকান ২৫:৬৩]

৭৬। এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭]

৭৭। আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮]

৭৮। সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না।
[সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯]

৭৯। সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭]

৮০। দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না।
[সূরা লোকমান ৩১:১৮]

৮১। কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১:১৯]

৮২। নারীরা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে।
[সূরা আহ্‌যাব ৩৩:৩৩]

৮৩। আল্লাহ্‌ তাআলা যাবতীয় পাপ মোচন করে দিতে পারেন। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]

৮৪। আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা যুমার ৩৯:৫৩]

৮৫। ভালো দ্বারা মন্দ প্রতিহত করো।
[সূরা হা-মিম সাজদা ৪১:৩৪]

৮৬। যেকোনো বিষয়ে পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নাও। [সূরা শূরা ৪২:৩৮]

৮৭। মানুষের সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করো।
[সূরা হুজরাত ৪৯:৯]

৮৮। কাউকে পরিহাস করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১১]

৮৯। সন্দেহ থেকে বিরত থেকো। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২]

৯০। পরনিন্দা করো না। [সূরা হুজরাত ৪৯:১২]

৯১। সবচেয়ে আল্লাহ্‌ভীরু ব্যক্তি সবচেয়ে সম্মাননীয়। [সূরা হুজরাত ৪৯:১৩]

৯২। অতিথির সম্মান করো। [সূরা যারিয়াত ৫১:২৬]

৯৩। দাতব্যকার্যে অর্থ ব্যয় করো। [সূরা হাদিদ ৫৭:৭]

৯৪। দ্বিনের মধ্যে বৈরাগ্যের কোনো স্থান নেই।
[সূরা হাদিদ ৫৭:২৭]

৯৫। জ্ঞানীজনকে আল্লাহ্‌ তাআলা সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। [সূরা মুজাদালাহ্‌ ৫৮:১১]

৯৬। অমুসলিমদের সাথে সদয় ও ন্যায় আচরণ করো। [সূরা মুমতাহিনাহ্‌ ৬০:৮]

৯৭। লোভ-লালসা থেকে সুরক্ষিত থেকো।
[সূরা তাগাবুন ৬৪:১৬]

৯৮। আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করো। তিনি মহাক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।
[সূরা মুযযাম্মিল ৭৩:২০]

৯৯। ভিক্ষুককে ধমক দিও না। [সূরা যুহা ৯৩:১০]

১০০। অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করো। [সূরা মা’ঊন ১০৭:৩

কেমন করে কথা বলতে হবে? আল্লাহর তা’আলার কাছ থেকে শিখি!

১. কথা বলার পূর্বে সালাম দেয়া। সূরা
নূর-৬১
২. সতর্কতার সাথে কথা বলা (কেননা
প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়) সূরা ক্বফ-১৮
৩. সুন্দরভাবে ও উত্তমরূপে কথা বলা। সূরা
বাক্বারাহ-৮৩
৪. অনর্থক ও বাজে কথা পরিহার করা।
সূরা নূর-৩
৫. কন্ঠস্বর নিচু করে কথা বলা। সূরা
লুকমান-১৯ হুজুরাত-২,৩
৬. বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলা। সূরা
নামল-১২৫
৭. সঠিক কথা বলা ও পাপ মোচনের
দোয়ার উন্মুক্ত করা।
সূরা আহযাব-৭১,৭২
৮. গাধার মত কর্কশ স্বরে কথা না বলা।
সূরা লুকমান-১৯
৯.উত্তম কথা বলে শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত
করা।
সূরা হা- মীম সাজদাহ-৩৪
১০. উত্তম কথায় দাওয়াত দেয়া।
সূরা হা- মীম সাজদাহ-৩৪
১১. ঈমানদারদের কথা ও কাজ এক হওয়া।
সূরা ছফ-২
১২. পরিবারের সদস্যদের প্রতি
ক্ষমারনীতি অবলম্বন করা। সূরা
আ’রাফ-১৯৯
১৩. মেয়েরা পর পুরুষের সাথে
আকর্ষণীয়ও কোমল ভাষায় কথা না বলা।
সূরা আহযাব-৩২
১৪.মূর্খ ও অজ্ঞদের সাধ্যমত এড়িয়ে চলা।
সূরা ফুরকান-৬৩

যেসব কাজে জীবনের সব কিছুতে বরকত নেমে আসে। বরকতের ১০টি চাবিঃ

১,ঈমান এবং তাকওয়া।
২,সকল কাজে বিসমিল্লাহ্‌ পড়া।
৩,বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা।
৪,দান করা।
৫,আত্তীও সজনের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখা।
৬,সকাল বেলা ভোরে ভোরে কাজে যাওয়া।
৭,নিজে সালাত পড়তে হবে এবং পরিবারের সবাইকে সালাত পড়ার নির্দেশ দিতে হবে।
৮,সকল অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করা।
৯,বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।
১০,সালামের ব্যাপক প্রচলন ঘটাতে হবে।
(শাইখ আহমাদুল্লাহ)

রাষ্ট্রপ্রধান হযরত ওমরের (রাঃ) ঈদ শপিং ও অর্থমন্ত্রী আবু উবাইদার (রাঃ) সহযোগীতাঃ

মদিনার অলিতে-গলিতে ঈদের আমেজ চলছিল। ঈদ উপলক্ষ্যে মদিনার ঘরে ঘরে বইছে অনাবিল খুশির হাওয়া। বাচ্চাদের জন্য বানানো হচ্ছে নতুন জামাকাপড়। আর মাত্র এক দিন বাকি আছে ঈদের।এদিকে অর্ধ পৃথিবীর শাসক হযরত ওমর(রাঃ) এর ঘরে ঈদের কোন আনন্দ নেই। নতুন জামা-কাপড় বানানোর হিড়িকও নেই। ঈদের আগের দিন খলীফা হযরত ওমর(রাঃ) এর স্ত্রী উম্মে কুলসুম বললেন, “আমাদের জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে, কিন্তু ছোট বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে”। খলীফা বললেন, “আমার নতুন কাপড় কেনার কোন সামর্থ্য নেই”। খলীফা পত্নী উম্মে কুলসুম পরামর্শ দিলেন “খলীফার আগামী মাসের বেতন থেকে অগ্রিম নেয়ার জন্য”। তখন সাহাবী হযরত আবু উবাইদা মদিনার রাষ্ট্রীয় কোষাগার ‘বায়তুল মাল’ দেখাশুনা করতেন অর্থাৎ অর্থমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করতেন। খলীফা ওমর(রাঃ) হযরত আবু উবাইদাকে খলীফার এক মাসের অগ্রিম বেতন দেয়ার জন্য বাহকের মাধ্যমে চিঠি পাঠালেন। সমগ্র মুসলিম জাহানের খলীফা, অর্ধ পৃথিবী শাসন করছেন যিনি,তার এ ধরণের চিঠি পেয়ে আবু উবাইদা (রাঃ)এর চোখে পানি চলে আসল। অর্থমন্ত্রী হযরত আবু উবাইদা (রাঃ) বাহককে টাকা না দিয়ে দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে পাল্টা চিঠি লিখলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে।’ ‘প্রথমত- আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন কি না? দ্বিতীয়ত- বেঁচে থাকলেও খিলাফতের দায়িত্বে আপনি বহাল থাকবে কিনা?’। হযরত আবু উবাইদার রা. চিঠি পাঠ করে হযরত ওমর রা. অঝোরে কাঁদলেন। চোখের পানিতে খলিফার দাঁড়ি ভিজে গেলো। হাত তুলে হযরত আবু উবাইদার জন্য দোয়া করলেন, ‘আল্লাহ আবু উবাইদার উপর রহম কর, তাঁকে হায়াত বাড়িয়ে দাও।’ আর স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আছেন, আমার উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ”।
আল্লাহ আমাদের শিক্ষা নেয়ার তাওফিক দিন। এবং
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ ধরনের রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীপরিষদ আমাদেরকে দান করুন।
আমিন

ঈমানী দুর্বলতার লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

-শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
.
দুর্বল ঈমানের লক্ষণ-
১। পাপে নিমজ্জিত হওয়া, হারাম কাজ করা।
২। অন্তকরণে কাঠিন্য অনুভব, উপদেশ বা জানাজা দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।
৩। ইবাদতে একাগ্রতার অভাব, বরং উদাসীনতা।
৪। ইবাদত ও আনুগত্যে শৈথিলতা ও অলসতা প্রদর্শন।
৫। মেজাজের ভারসাম্যহীনতা ও বক্ষের অপ্রশস্থততা।
৬। কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।
৭। আল্লাহর জিকির ও দুয়ার ব্যাপারে গাফিল হওয়া।
৮। হারাম কাজ হতে দেখলেও খারাপ না লাগা।
৯। নিজেকে প্রকাশ করতে ভালবাসা।
১০। কৃপণতা।
১১। কথা ও কাজে অমিল।
১২। মুসলিম ভাইয়ের বিপদে খুশি হওয়া।
১৩। কোন কাজ গুনাহের কিনা তা না দেখে নিজের অপছন্দের কিনা তা দেখা।
১৪। ভাল কাজ তুচ্ছজ্ঞান ও নেকীর কাজ গুরুত্ব না দেয়া।
১৫। মুসলিমদের সমস্যার ব্যাপারে গুরুত্ব না দেয়া।
১৬। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিন্ন করা।
১৭। দ্বীনের কাজে দায়িত্বানুভূতি না থাকা।
১৮। বিপদাপদে ভীত সন্ত্রস্ত হওয়া।
১৯। দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ ও এর প্রতি ঝুঁকে যাওয়া।
২০। অনর্থক ঝগড়া বিবাদ বা তর্কে লিপ্ত হওয়া।
২১। জনশ্রুতিকে বর্ণনার জন্য গ্রহন করা।
২২। নিজেকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকা।
.
.
ঈমানী দুর্বলতার কারণ-
১। ঈমানী পরিবেশ থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকা।
২। সৎ ও অনুকরণযোগ্য ব্যক্তি হতে দূরে থাকা।
৩। শরীয়তী জ্ঞান ও ঈমানী বই হতে দূরে থাকা।
৪। গুনাহগারদের মাঝে অবস্থান করা।
৫। দুনিয়ার মোহে মগ্ন হওয়া।
৬। ধন-সম্পদ ও পরিবার নিয়েই মেতে থাকা।
৭। উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা বিলাসী আকাঙ্ক্ষা।
৮। বেশী খাওয়া, বেশী ঘুম, বেশী কথা, অধিক রাত্রিজাগরণ, কাঠিন্যতা ।
.
.
ঈমানী দুর্বলতার চিকিৎসা-
১। কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা।
২। মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর বড়ত্ব অনুভব এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীর চিন্তা করা।
৩। শরীয়াতের জ্ঞানার্জন, ঈমানী বইয়ের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি।
৪। নিয়মিত ইসলামী আলোচনায় উপস্থিত হওয়া।
৫। বেশী বেশী নেক আমল করা ও নেক কাজে প্রতিযোগিতা করা।
৬। বিভিন্ন ধরনের ইবাদাতে (শারীরিক, আর্থিক) আত্মনিয়োগ করা।
৭। খারাপ পরিণতির আশঙ্কা করা ও শেষ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কতা।
৮। বেশী বেশী মৃত্যুর স্মরণ, জানাজা, দাফন ও জিয়ারতে অংশ নেয়া।
৯। পরকালের মাঞ্জিল যেমন- কিয়ামত, পুলসিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম নিয়ে চিন্তা করা।
১০। প্রাকৃতিক কোন ঘটনা দেখলে পরকালের চিন্তা করা। যেমন-মেঘ, সূর্য, চন্দ্র, এদের গ্রহন।
১১। সর্বদাই আল্লাহর স্মরণ বা জিকির।
১২। মোনাজাত বা একাগ্রভাবে আল্লাহকে ডাকা।
১৩। কামনা বাসনা কম করা।
১৪। দুনিয়াকে নগন্য মনে করা।
১৫। আল্লাহর নির্দেশসমূহের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
১৬। মুমিনের সাথে সম্পর্ক গড়া ও কাফেরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা।
১৭। বিনয়ী হওয়া, দুনিয়ার চাকচিক্য পরিহার করা।
১৮। অন্তরে আল্লাহকে ভালোবাসা, ভয় করা, তাঁর প্রতি সুধারনা ও ভরসা পোষণ করা, তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ও তাঁর নিকট তাওবা করা।
১৯। আত্নসমালোচনা করা।
২০। আল্লাহর নিকট মজবুত ঈমানের জন্য দুয়া করা।

ঈমান দুর্বলতার আলামত, কারণ ও চিকিৎসা

মূল: শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
————————
❖ প্রথম: ঈমান দুর্বলতার কতিপয় আলামত (১৯টি)
১) পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া
২) অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া
৩) মজবুতভাবে ইবাদত না করা
৪) ইবাদতে অলসতা করা
৫) অন্তরে সংকীর্ণতা অনুভব করা
৬) কুরআনের আয়াত, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, আযাব-গযব এবং কিয়ামতের বিবরণ শুনে প্রভাবিত না হওয়া
৭) আল্লাহর যিকির-আযকার, দুয়া ইত্যাদির ব্যাপারে অমনোযোগী থাকা
৮) আল্লাহ বিধান লঙ্ঘিত হতে দেখলেও মনে রাগ বা ক্ষোভ সৃষ্টি না হওয়া
৯) নিজেকে লোক সমাজে প্রকাশের মনোবাসনা সৃষ্টি হওয়া
১০) প্রচণ্ড অর্থলিপ্সা ও কৃপণতা করা
১১) এমন কথা বলা যা সে নিজে করে না।
১২) কোন মুসলিমের বিপদ দেখে আনন্দিত হওয়া
১৩) কল্যাণকর কাজকে তুচ্ছ মনে করা বা ছোট ছোট নেকীর কাজকে গুরুত্ব না দেয়া
১৪) মুসলিমদের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে গুরুত্ব না দেয়া
১৫) বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়া
১৬) বিপদাপদ বা সমস্যায় মুষড়ে পড়া
১৭) তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়াঝাঁটি করা
১৮) দুনিয়ার প্রেমে মগ্ন থাকা
১৯) খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ, গাড়ি-বাড়ি ইত্যাদিতে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া।
————————–
❖ দ্বিতীয়: ঈমান দুর্বলতার কারণ (৮টি)
১) দীর্ঘ সময় ঈমানী পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
২) সৎ, আদর্শবান ও অনুসরণীয় মানুষের সংশ্রব থেকে দূরে থাকা
৩) দ্বীনের ইলম (জ্ঞান) অন্বেষণ থেকে দূরে থাকা
৪) পাপ-পঙ্কিল পরিবেশে বসবাস করা
৫) দুনিয়াবি ব্যস্ততায় নিমগ্ন থাকা
৬) ধন-দৌলত, সন্তান-সন্ততি ও স্ত্রী-পরিবার নিয়ে ব্যস্ততায় ডুবে থাকা
৭) সুদীর্ঘ আশা
৮) অতিরিক্ত পানাহার,অতিরিক্ত ঘুম অথবা নিঘূর্ম রাত কাটানো। অনুরূপভাবে মানুষের সাথে মেলামেশা ও উঠবসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় অপচয় করা।
————————–
❖ তৃতীয়: ঈমান দুর্বলতার চিকিৎসা (১৯টি)
❂ ১) আল কুরআন অধ্যয়ন করা
❂ ২) মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব অনুধাবন করা,তাঁর নাম ও গুণাবলীগুলো সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করার পর সেগুলোর মর্মার্থ জেনে-বুঝে সেগুলোকে অন্তরে গেঁথে নেয়া এবং কাজে-কর্মে তার প্রতিফলন ঘটানো।
❂ ৩) দ্বীনের ইলম অন্বেষণ করা
❂ ৪) যে সকল বৈঠকে আল্লাহর যিকির তথা আল্লাহ এবং আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া
❂ ৫) অধিক পরিমাণে নেকীর কাজ করা এবং সব সময় নেকীর কাজে লেগে
❂ ৬) বিভিন্ন প্রকারের ইবাদত করা
❂ ৭) অধিক পরিমাণে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা
❂ ৮) ঈমান নবায়নের অন্যতম উপায় হল,আখিরাতের বিভিন্ন মনজিলের কথা স্মরণ করা
❂ ৯) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঘটনাবলীতে প্রভাবিত হওয়া
❂ ১০) আল্লাহর যিকির
❂ ১১) আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের দীনতা তুলে ধরে দুয়া-মুনাজাত করা
❂ ১২) বেঁচে থাকার লম্বা আশা না করা
❂ ১৩) এ কথা চিন্তা করা যে, পার্থিব জীবন খুবই নগণ্য
❂ ১৪) আল্লাহর বিধি-বিধান ও-নিদর্শনাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা
❂ ১৫) আল ওয়ালা ওয়াল বারা
❂ ১৬) বিনয়
❂ ১৭) অন্তরের কতিপয় বিশেষ কাজ
❂ ১৮) আত্মসমালোচনা
❂ ১৯) দুআ

জাকির নায়েককে ফেরত চাইছে ভারত

ইসলামিক আলোচক ড. জাকির নায়েককে ফেরত চেয়েছে ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থা জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং চার্জশিট উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

খবরে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। তবে জাকির নায়েককে হস্তান্তর করতে মালয়েশিয়া প্রস্তুত বলে আগে জানিয়েছিল।

মালয়েশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি বলেছিলেন, ভারত জাকির নায়েককে হস্তান্তরের অনুরোধ করলে দুই দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুই দেশের আইন অনুযায়ী জাকির নায়েককে হস্তান্তরের সুযোগ রয়েছে। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তরুণদের জিহাদে উদ্বুদ্ধসহ কয়েকটি অভিযোগ আনে ভারত। তারপর থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

ইমাম মাহদির আগমনের দিনটিকে দাজ্জালি মিডিয়া কেমনভাবে বিশ্বে সংবাদ হিসাবে প্রচার করবে?

কাফেররা মুসলমানদেরকে যে দৃষ্টিভঙ্গির দিকেই নিতে চায়, সারা বিশ্ব ওদিকেই দৌড়ে যেতে শুরু করে। সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ কোন প্রকার লাভ লোকসান বিবেচনা ছাড়াই হলিউড-বলিউড নায়িকাদের মায়াবী চুলের বন্ধনে বন্দি হয়ে আছে। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে মানুষের সামনে পেশ করা হচ্ছে। দাজ্জালি শক্তির বিরুদ্ধের যুদ্ধকে একতরফাভাবে “সন্ত্রাসী যুদ্ধ” বলে মানুষের ব্রেইনে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দাজ্জালি শক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অনেক ভূখণ্ডেই আল্লাহর বান্দারা যুদ্ধ জারি রেখেছেন। বীরত্ব, বাহাদুরি, ধৈর্য এবং আত্মোৎসর্গের এমন এমন ইতিহাস রচনা করে যাচ্ছেন যে, উম্মতের জন্য তা গৌরবের বিষয় ছিল। কিন্তু এই মিডিয়া মানুষকে পুরো বিষয়টিকে ‘সন্ত্রাস’ বলে মোহাচ্ছন করে রেখেছে। একমাত্র আল্লাহ যাকে চান, সেই একমাত্র এর থেকে মুক্ত হতে পারছে। কুফর ও ইসলামের মধ্যকার এ যুদ্ধে মানুষেরা ঐ মতামতটিকেই বিশ্বাস করে নিচ্ছে, যা দাজ্জালি শক্তি এবং তার অনুসারীরা মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গও মিডিয়ার এ বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত নয়। যেমনটি হযরত হুজায়ফা (রাঃ) বলেন,
“তোমাদের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি যে জিনিসের ভয় করছি তা হচ্ছে যে, তোমাদের জানা থাকা সত্তেও তোমরা ঐ বস্তুকেই প্রাধান্য দিবে যা তোমরা প্রত্যক্ষ করবে এবং তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এমতাবস্থায় যে তোমরা টেরও পাবে না”।
(ইবনে আবী শাইবা, ৭/৫০৩)
বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলোকে মিডিয়া যেভাবে পেশ করছে, তা যদি সামনে রাখা হয় – অতপর ইমাম মাহদি এর আবির্ভাবের সময় যখন উলামায়ে দ্বীন এবং মুজাহিদিন কর্তৃক উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার পরিস্থিতিকেও সামনে রাখেন, তবে আন্দাজ করা মুশকিল হয় না যে, মিডিয়া ইমাম মাহদিকে মানুষের সামনে কিভাবে পেশ করবে!! পাশাপাশি মিডিয়াভক্ত লোকেরা ঘটনাটিকে কিভাবে গ্রহণ করবে!!
আসুন আগে আমরা ইমাম মাহদি এর আগমনের বছরের লক্ষণ, আগমনের দিনের ঘটনা, তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা এবং তাঁর আগমন নিশ্চিত হবার পর তাঁর বিরুদ্ধে বাহিনী প্রেরণের ঘটনা সম্বলিত হাদিসগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নেই।
ইমাম মাহদি এর আগমনের বছরের লক্ষণ সেই বছরের রমজান মাস থেকেই প্রকাশ পাবে। ফিরোজ দায়লামি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“কোন এক রমজানে আওয়াজ আসবে”।
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে? নাকি মাঝামাঝি সময়ে? নাকি শেষ দিকে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“না, বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে আর সত্তর হাজার বধির হয়ে যাবে”।
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের কারা সেদিন নিরাপদ থাকবে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থানরত থাকবে, সিজদায় লুটিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং উচ্চ শব্দে আল্লাহু আকবর বলবে। পরে আরও একটি শব্দ আসবে। প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের।
ঘটনার পরম্পরা এরূপঃ শব্দ আসবে রমজানে। ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হবে শাওয়ালে। আরবের গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে। হাজী লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে জিলজ্জ মাসে। আর মুহাররমের শুরুটা আমার উম্মতের জন্য বিপদ। শেষটা মুক্তি। সেদিন মুসলমান যে বাহনে চড়ে মুক্তি লাভ করবে, সেটি তার কাছে এক লাখ মূল্যের বিনোদন সামগ্রীতে পরিপূর্ণ ঘরের চেয়েও বেশি উত্তম বলে বিবেচিত হবে”।
(মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)
অপর এক বর্ণনায় আছে,
“… সত্তর হাজার মানুষ ভয়ে পথ হারিয়ে ফেলবে। সত্তর হাজার অন্ধ হয়ে যাবে। সত্তর হাজার বোবা হয়ে যাবে এবং সত্তর হাজার বালিকার যৌনপর্দা ফেটে যাবে”।
(আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“রমজানে আওয়াজ আসবে। জুলকা’দায় গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে আর জিলহজ্জ মাসে হাজীলুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে”।
(মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)
হযরত আমর ইবনে শু’আইব এর দাদা বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“জুলকা’দা মাসে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে দ্বন্দ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটবে। ফলে হজ্জ পালনকারীরা লুণ্ঠিত হবে এবং মিনায় যুদ্ধ সংগঠিত হবে। সেখানে ব্যাপক প্রানহানির ঘটনা ঘটবে এবং রক্তের স্রোত বয়ে যাবে। অবশেষে তাদের নেতা (হযরত মাহদি) পালিয়ে রোকন ও মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যখানে চলে আসবে। তাঁর অনীহা সত্ত্বেও মানুষ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। তাঁকে বলা হবে, আপনি যদি আমাদের থেকে বাইয়াত নিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আমরা আপনার ঘাড় উড়িয়ে দিব। বদর যুদ্ধের সংখ্যার সমসংখ্যক মানুষ তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করবে। সেদিন যারা তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে, আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে”।
(মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৪৯)
তাবরানির অপর এক বর্ণনায় আছে,
“বাইয়াত গ্রহণকারী মুসলমানের সংখ্যা হবে বদরী মুজাহিদগণের সংখ্যার সমান। অর্থাৎ তিনশ তের জন”।
(আল মু’জামুল আসওসাত, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৭৬)
মুসতাদরাকেরই আরেক বর্ণনায় আছে, হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেছেন,
‘লোকেরা যখন পালিয়ে হযরত মাহদির কাছে আগমন করবে, তখন মাহদি কাবাকে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) আমি যেন তাঁর অশ্রু দেখতে পাচ্ছি। মানুষ হযরত মাহদিকে বলবে, আসুন, আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি। হযরত মাহদি বলবেন, আফসোস! তোমরা কত প্রতিশ্রুতিই না ভঙ্গ করেছ! কত রক্তই না ঝরিয়েছ! অবশেষে অনীহা সত্ত্বেও তিনি লোকদের থেকে বাইয়াত নেবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) ওহে মানুষ! তোমরা যখন তাঁকে পাবে, তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। কারণ, তিনি দুনিয়াতেও ‘মাহদি’, আসমানেও ‘মাহদি’।
ইমাম যুহরি বলেছেন, হযরত মাহদির আত্মপ্রকাশের বছর দুজন ঘোষক ঘোষণা করবে। একজন আকাশ থেকে, একজন পৃথিবী থেকে। আকাশের ঘোষক ঘোষণা করবে, লোকসকল! তোমাদের নেতা অমুক ব্যক্তি। আর পৃথিবীর ঘোষক ঘোষণা করবে, ওই ঘোষণাকারী মিথ্যা বলেছে। এক পর্যায়ে পৃথিবীর ঘোষণাকারী যুদ্ধ করবে। এমনকি গাছের ডাল-পাতা রক্তে লাল হয়ে যাবে। সেদিনকার বাহিনীটি সেই বাহিনী, যাকে ‘জাইশুল বারাজি’ তথা ‘জিনওয়ালা বাহিনী’ বলা হয়েছে। সেদিন যারা আকাশের ঘোষণায় সাড়া দিবে, তাদের মধ্য থেকে বদরি মুজাহিদগণের সংখ্যার সমসংখ্যক লোক তথা তিনশো তেরজন মুসলমান প্রানে রক্ষা পাবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, মারাত্মক যুদ্ধ হবে – শেষ পর্যন্ত হকপন্থিদের মধ্যে শুধু বদর যুদ্ধের সেনাসংখ্যা (৩১৩) পরিমাণ লোক অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা সেখান থেকে ফিরে এসে ইমাম মাহদির কাছে এসে বাইয়াত হয়ে যাবে।
হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের নিকট তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক থেকে কতগুলো কালো পতাকা আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।
বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,
“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”।
(সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)
এখানে ‘খলীফা সন্তান’ অর্থ সবাই বাদশা বা শাসকের সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতার দাবী করবে। আর ‘ধন ভাণ্ডার’ দ্বারা কাবা ঘরের নিচের প্রোথিত ধন সম্পদ হতে পারে। আবার নিছক রাজত্বও হতে পারে। কারও মতে, ফোরাত নদীর স্বর্ণ পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু রাজত্ব হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ,
উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
“জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করে বিরোধ সৃষ্টি হবে। তখন মদিনার একজন লোক পালিয়ে মক্কা চলে আসবে (এই আশঙ্কায় যে, পাছে মানুষ আমাকে খলীফার পদে অধিষ্ঠিত করে কিনা)। মক্কার লোকেরা তাঁকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রুকুন এবং মাকামে ইব্রাহিমের মাঝামাঝি স্থানে বাইয়াত গ্রহণ করবে।
বাইয়াতের খবর শুনে সিরিয়ার দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা মদিনার মাঝামাঝি বায়দা নামক স্থানে এসে পৌঁছানোর পর এই বাহিনীটিকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেওয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে সিরিয়ার ‘আবদাল’ (শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ) ও ইরাকের ‘আসাইব’ (সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ) মক্কায় এসে তাঁর (ইমাম মাহদির) নিকট বাইয়াত হবে। অতঃপর সিরিয়ার বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। সিরিয়ার দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে পরাস্ত করবেন, যার ফলে তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। এটিই হল ‘কালবের যুদ্ধ’। যে ব্যক্তি কালবের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, সে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে। তাঁরপর তিনি ধনভাণ্ডার খুলে দেবেন, মাল দৌলত বণ্টন করবেন এবং ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে সাত বছর কিংবা (বলেছেন) নয় বছর”।
(আল মু’জামুল আওসাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস ৬৯৪০; ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭৫৭; আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস ৯৩১)
আবু দাউদের অপর এক বর্ণনায় আরও আছে, “তারপর তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং মানুষ তাঁর জানাজা আদায় করবে”।
ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে (কালেমার একক পতাকার ছায়াতলে জাতীয়তাবাদহীন একক ভূখণ্ড) সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তিনি পেছন দিককার শত্রুর সাথে যুদ্ধ, রোমানদের সাথে মহাযুদ্ধ, আন্তাকিয়ার যুদ্ধ, আমকের যুদ্ধ, ফোরাতের তীরে যুদ্ধ, হিন্দুস্তানের (ভারতীয় উপমহাদেশ) যুদ্ধ, কুস্তুন্তুনিয়ার ( তুরস্কের ইস্তাম্বুল) রক্তপাতহীন যুদ্ধসহ অনেক ছোটবড় যুদ্ধ তাঁর খেলাফতকালে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী কোন লেখায় এগুলোর উপর বিষদ আলোচনা করা হবে।
উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“কাবা ঘরে আশ্রিত ব্যক্তির (ইমাম মাহদি) বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনীর আগমন হবে। বায়দার প্রান্তরে পৌছা মাত্র বাহিনীর মধ্যভাগ ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। সম্মুখভাগ পেছন ভাগের সেনাদেরকে ডাকাডাকি করতে থাকবে। পরক্ষনেই সম্পূর্ণ বাহিনীকে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সংবাদ বাহক একজন ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না”। (মুসলিম শরীফ)
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন যেন করছিলেন। জাগ্রত হওয়ার পর জিজ্ঞেস করলাম, এমন কেন করছিলেন হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন,
“খুবই আশ্চর্যের বিষয় – আমার উম্মতের কিছু লোক কাবা ঘরে আশ্রিত কুরায়শী ব্যক্তিকে (ইমাম মাহদি) হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বায়দা প্রান্তরে পৌঁছা মাত্র সবাইকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে”।
আমরা বললাম, ‘পথে তো অনেক মানুষের সমাগম থাকে!!’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“হ্যাঁ, দর্শক, অপারগ এবং পথিক সকলকেই একত্রে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে অন্তরইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহপাক তাদের পুনরুত্থান করবেন”। (মুসলিম শরীফ)
উপরের হাদিসগুলো থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যে বছর ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে, সে বছরের রমজান থেকেই আলামত প্রকাশ পেতে থাকবে। এবং সেই বছরের মধ্য রমজান হবে শুক্রবার।
২০২৫ সাল পর্যন্ত আগামীবছরগুলোতে মধ্য রমজান শুক্রবার হবার সম্ভাবনা যে সালগুলোতে সেগুলো হল, ২০১৪ সালের ১১ ও ১২ ই জুলাই (১৪৩৫ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০১৫ সালের ২ ও ৩ জুলাই (১৪৩৬ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার), ২০১৭ সালের ৯ ও ১০ ই জুন (১৪৩৮ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২০ সালের ৮ই মে (১৪৪১ হিজরির ১৫ ই রমজান শুক্রবার), ২০২২ সালের ১৫ ও ১৬ ই এপ্রিল (১৪৪৩ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২৩ সালের ৬ ও ৭ ই এপ্রিল (১৪৪৪ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) এবং ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ ই মার্চ (১৪৪৬ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার)।
চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে এবং ২৯ বা ৩০ দিনে রমজান মাস হবার উপর ভিত্তি করে মধ্য রমজান শুক্রবার হিসাবে সাব্যস্ত হবে।
‘প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের’ দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, প্রথম শব্দটি আকাশ থেকে আসবে আল্লাহর নির্দেশে। কিন্তু যেহেতু এই শব্দের প্রভাব দুনিয়ার সতর্ক মুমিনদের চোখ খুলে দিবে এবং তাই কাফিররা প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় এমন বিকট কোন শব্দ ঘটাবে, যাকে ‘শয়তানের শব্দ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এবং এই শব্দকে একটি প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা বলে দাজ্জালি মিডিয়াতে এমনভাবে রং লাগিয়ে প্রকাশ করা হবে, যাতে দুনিয়ার সবাই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় এবং অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানরা সহজেই পথ ভ্রষ্ট হয়।
‘জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করে বিরোধ সৃষ্টি’, ‘তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে’ এবং এসময় ইমাম মাহদির ‘মদিনা থেকে মক্কায় চলে আসা’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, মৃত্যুবরণকারী খলীফা কোন এক সৌদি শাসক হবেন, যার মৃত্যুর পর তাঁর স্থালাভিসিক্তি নিয়ে মতবিরোধ ঘটবে। বর্তমানে সৌদি রাজ পরিবারের কাছে রাজত্বের পাশাপাশি মক্কা – মদিনার দায়িত্বপ্রাপ্তি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি বাদশারা তাদের নামের সাথে তাদের মক্কা – মদিনার সংশ্লিষ্টতাও লিখে থাকেন। যেমন বর্তমান বাদশা তাঁর নাম সরকারীভাবে এভাবে লিখেনঃ King Abdullah Bin Abdul Aziz al Saud, Kingdom of Saudi Arabia & custodian of two holy mosques.
বর্তমান বাদশার বয়স ৮৯ বছর। সৌদি রাজ পরিবারের ব্যাপারে সেখানকার সাধারণ জনগণের অসন্তোষ, তাঁর ভবিষ্যৎ মৃত্যু এবং মধ্য প্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা ষড়যন্ত্রও পিছিয়ে নাই। গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপে যার শিরোনাম ‘How 5 countries in middle east could become 14’। সেখানে তারা বেছে নিয়েছে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সৌদি আরব। (এর ভিতরে ৩ টি ভূখণ্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে ইমাম মাহদির আগমনের দিন, আমরা হাদিস থেকে জেনেছি, সিরিয়ার ‘আবদাল’ বাশ্রেষ্ঠমুসলমানগণওইরাকের ‘আসাইব’ বাসম্মানিতমুসলিমব্যক্তিবর্গমক্কায়এসেইমামমাহদিরনিকটবাইয়াতহবে)।আর সৌদি আরবকে ভাঙ্গার সম্ভাব্য কারণ দেখিয়েছেঃ
‘Saudi Arabia faces itsown (suppressed)internal divisions thatcould surface as powershifts to the nextgeneration of princes.The kingdom’s unity isfurther threatened bytribal differences, theSunni-Shiite divide andeconomic challenges’.
হাদিসেও এসেছে ‘গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে’। আর সব মিলিয়ে যদি সত্যিই পশ্চিমারা অদূর ভবিষ্যতে এর সুযোগ নিতে চায়, স্বভাবতই সবচেয়ে বড় যেই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তা হলঃ “মক্কা – মদিনার দায়িত্বপ্রাপ্তি” বা custodian of two holy mosques.
হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘বাইয়াতের খবর শুনে সিরিয়ার দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে’। এর অর্থ হল ইসলামের শত্রুরা হযরত মাহদির অপেক্ষায় থাকবে এবং গোয়েন্দা মারফত হারাম শরীফের খবর নিতে থাকবে। হারাম শরীফের সিরিয়ার দিক থেকে বর্তমান সিরিয়া ব্যতীত যে ভূখণ্ডটি আছে তা হল জর্ডান (রাসুল সা. এর সময়ে এটি তৎকালীন শাম অর্থাৎ বৃহত্তর সিরিয়ার অংশ ছিল)। যেহেতু সিরিয়া থেকে বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শী দ্বিতীয় বাহিনী প্রেরণ করবে, তাতে আন্দাজ করা যায়, এই বাহিনীটি আসবে জর্ডান থেকে। এবং তা কিভাবে হবে, এটি বুঝতে হলে বর্তমান জর্ডানের সামরিক কার্যকলাপের দিকে নজর দিতে হবে। সিরিয়াতে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে উপলক্ষ্য করে একে আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ দেখিয়ে জর্ডান সরকার ২০১৩ এর প্রথমার্ধে ৯০০ মার্কিন সৈন্যকে থাকার অনুমতি দেয়। এবং মার্কিন সামরিক সচিব টাইমস পত্রিকাকে এপ্রিলে জানায়, এটি যে কোন সময় বাড়িয়ে ২০,০০০ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই যদি হয়, বর্তমান অবস্থা, তাহলে যখন সৌদি আরবে গোত্রগুলোর বিদ্রোহের কারণে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তখন এই জর্ডানের সরকারী বাহিনী তাদের মিত্র কাফের বাহিনীকে নিয়ে নিজ গদি ঠেকাতে কি পদক্ষেপ নিতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, পুরো বাহিনীটিকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে এবং “সংবাদ বাহক একজন ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না”। এরূপ এক আজাবের সাক্ষীকে স্বভাবতই গায়েব/হত্যা করা হবে এবং কখনোই তা প্রকাশ করতে দেওয়া হবে না।
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, “অতঃপর সিরিয়ার বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। সিরিয়ার দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে”। এর অর্থ হল, সে সময় বনু কালবও সিরিয়া শাসন করবে ও তারা ইসলামের বিরোধিতায় লিপ্ত থাকবে।
কোন কোন হাদিসে এই শাসককে ‘সুফিয়ানি’ হিসাবে অবিহিত করা হয়েছে। এর কারণ, হিসাবে হযরত আলী (রাঃ) বলেন,
“সুফিয়ানি – যে লোক শেষ যুগে সিরিয়াতে দখল প্রতিষ্ঠা করবে সে বংশগতভাবে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংসদ্ভুত হবে। তারসহচরদের মধ্যেও “কালব্যিয়া” বা “কাল্ব” গোত্রের লোক বেশি হবে। মানুষের রক্তঝরানো তাদের বিশেষ অভ্যাসে পরিণত হবে। যে লোকই বিরোধিতা করবে, তাকেই হত্যাকরা হবে। এমনকি গর্ভস্থিত সন্তানদের পর্যন্ত হত্যা করবে। যখন হারাম শরীফে ইমাম মেহেদী (আঃ) এর আগমনের খবর প্রকাশ পাবে তখন এই শাসক ইমাম মেহেদী (আঃ) এর বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করবে”। (মাজাহিরে হক জাদিদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৩)
“শুরুর দিকে তারান্যায়পরায়ণ শাসক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে, পরে যখন শক্তি ও ক্ষমতা পাকাপোক্তহয়ে যাবে, তারা অত্যাচার-অবিচার ও অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়বে”। (ফয়জুল কদির, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১২৮)
অর্থাৎ প্রথমেতাদেরকে মুসলমানদের মাঝে মহান নেতা বা হিরো হিসাবে উপস্থাপন করা হবে, কিন্তু পরে তাদের আসল রূপ প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকরবে।
“প্রথম বাহিনী বায়দায় ধ্বসে যাওয়ার পর ইমাম মেহেদী মুজাহিদদের নিয়ে সিরিয়ার দিকে এগিয়ে যাবেন, সেখানে অন্য এক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করবেন এবং তাদেরকে পরাজিত করবেন। এই যুদ্ধটি “কাল্ব যুদ্ধ” নামে হাদিসে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বাহিনীর নেতার উপাধি ‘সুফিয়ানি’ (বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শী)। হযরত মেহেদী (আঃ) তারবিয়া হ্রদের কাছে এই শাসককে হত্যা করবেন”। (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)

মুসলিম বিশ্বের জন্য উদ্বিগ্নের বিষয় হল, ১৯৬৬সালে সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে সিরিয়ার ক্ষমতা দখলকারী আল আসাদ পরিবারও “কালব্যিয়া” বা “কাল্ব” গোত্রের।তারা শিয়াদের যে শাখার অনুসারী অর্থাৎ “নুসাইরিয়া”/ “আলাভি”/ “আলাওয়াতি”রাও“কালব্যিয়া” বা “কাল্ব” গোত্রের। এই আসাদদের অনুগত ও অনুসারী প্রশাসনিক ওসামরিক বাহিনীর বেশির ভাগই “নুসাইরিয়া”/ “আলাভি”তথা “কালব্যিয়া” বা“কাল্ব” গোত্রের। ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠের কারণে বেশির ভাগমুসলিমরা এই পরিবারকে হিরো মনে করে। আজ ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে তাদের আসল রূপপ্রকাশ পেয়েছে। আজ তারা “আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআ”দের সাথে সরাসরি যুদ্ধেলিপ্ত। প্রথম শাসক ছিল হাফিজ আল আসাদ, তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় শাসক বাশার আল আসাদ। কিন্তু আরবদের বিভিন্ন পশ্চিমা দালাল মিডিয়াতে নিজের “কালব্যিয়া” বা “কাল্ব” গোত্রের পরিচয়কে গোপন করে কুরাইশ বংশের পরিচয়কে বাশার আল আসাদ বার বার সামনে আনছে (হাদিসে এসেছে কালব গোত্রের কুরায়েশী ব্যক্তি) এবং রাসুল (সাঃ) এর কুরাইশ বংশের ধোঁয়া তুলে বর্তমান মুসলিম জাহানের অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানদের সহজেই পথ ভ্রষ্ট করছে।

এমনকি সিরিয়ার এই বনু কালব গোত্রীয় শাসক বাশার আল আসাদ গত ২১ শে আগস্ট ২০১৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে দামেস্কের আলগুতা শহরে। এই ‘আলগুতা’ হাদিসের বর্ণনা হিসাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, সিরিয়ার দামেস্কের “আল গুতা”নামক স্থানটিরাসূল (সাঃ) এর বর্ণিত “মালহামা” (মহাযুদ্ধে) একটি বড় ভূমিকা রাখবে, যেইযুদ্ধের নেতৃত্ব দিবেন ইমাম মেহেদী। হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“মহাযুদ্ধের সময় মুসলমানদের তাঁবু (ফিল্ড হেডকোয়ার্টার) হবে সিরিয়ার সর্বোন্নত নগরী দামেস্কের সন্নিকটস্থ আলগুতা নামক স্থানে”।

(সুনানে আবি দাউদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১১; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৩২; আল মুগনী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৬৯)

আলগুতাসিরিয়ায় রাজধানী দামেস্ক থেকে পূর্ব দিকে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার দূরেঅবস্থিত একটি অঞ্চল।মহাযুদ্ধের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দামেস্কের সন্নিকটস্থ আলগুতা নামক স্থানে ইমাম মাহদী এর হাতে থাকবে।

সমস্ত দাজ্জালি মিডিয়া এই রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়টিকে এমনই বিতর্কিত করে তুলেছে যে, আল্গুতা তো দূরের কথা, রাসায়নিক অস্ত্র আদৌ বাশার আল আসাদ এর বাহিনী মেরেছে কিনা সেটাই এখন ধোঁয়াশা হয়ে গেছে। আর এই বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদকে তো ইতিমধ্যেই পশ্চিমা দাজ্জালি মিডিয়া এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের দালাল মিডিয়া একে “যৌন জিহাদ” বলে অপপ্রচার করে অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানদের পথ ভ্রষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে।

হাদিসে মিনায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে বলা হয়েছে। এত বড় একটি ঘটনা হঠাৎ ঘটে যাবে না। বরং ইসলামের শত্রু কাফেররা (ইহুদী খৃষ্টান ও মূর্তিপূজারীরা) আগে থেকেই এর প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে এবং তাদের অনুগত দাজ্জালি মিডিয়ার দ্বারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অপপ্রচারটিই চালাবে। মিডিয়ার স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ হবে হয়তোঃ “হজ্জ চলাকালীন মুসলমানদের উপর মক্কা শরীফে সন্ত্রাসী হামলা”। তাদের অপপ্রচারের নমুনাটি নিম্নরূপ হতে পারেঃ

খবর পাঠকঃ আমরা এই মাত্র খবর পেলাম হজ্জ চলাকালীন মুসলমানদের উপর মক্কা শরীফে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আমরা সেখানে আমাদের সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবাহ [অথবা একটি আরব মুসলিম নাম] এর সাথে সরাসরি কথা বলব।
হ্যালো, আবদুল্লাহ শুনতে পাচ্ছেন।
আবদুল্লাহঃ হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি।
খবর পাঠকঃ মিনাতে ঠিক কি হচ্ছে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে?
আবদুল্লাহঃ মক্কার মিনা প্রান্তরে হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়েছে……। ওখানে ভয়ানক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হওয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে…। হাঙ্গামার কারণ এখনও অজানা…। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, এর পিছনে ঐ সকল সন্ত্রাসীরাই জড়িত, যারা ইতিপূর্বে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে আসছে … এবং ধর্মীয় স্থানগুলোতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসছে। মিনা প্রান্তরে অসংখ্য হাজীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। লাশগুলো রক্তের বন্যায় ভাসছে। আমি যে সকল জীবিতদের সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে অনেকেরই হজ্জের সামানা লুণ্ঠিত হয়েছে।
খবর পাঠকঃ আব্দুল্লাহ, কাবা শরীফের এই মুহুর্তে ঠিক কি অবস্থা?
আবদুল্লাহঃ উপস্থিত সন্ত্রাসীরা আল্লাহর পবিত্র ঘর কা’বা শরীফ দখল করে নিয়েছে এবং কা’বা শরীফের আশেপাশের হাজীদেরকে বন্দি করে ফেলেছে। সন্ত্রাসীরা এই হাজীদেরকে নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। বন্দিদের মধ্যে ছোট ছোট শিশু এবং অজস্র নারী বিদ্যমান। চারপাশ থেকে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। সাহায্যের জন্য শিশুরা চিল্লাচিল্লি করে আহ্বান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সকল সন্ত্রাসীদের মধ্যে মার্কিনবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও বিদ্যমান …… যাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য আগে থেকেই অপারেশন জারি ছিল…… সন্ত্রাসীদের ধর্ম বলে কিছু নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এই সন্ত্রাসীদের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৫০ এর মতো হবে। (ইমাম মাহদির আগমন ও ৩১৩ জনের বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা আড়াল ও সন্ত্রাসী বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া)
সংবাদ পাঠকঃ আবদুল্লাহ আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আবার আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করব। এইমাত্র আমাদের হাতে খবর এসে পৌঁছেছে যে, মক্কা শরীফকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জর্ডান ও মার্কিন সেনাদের নিয়ে গঠিত শান্তিরক্ষা বাহিনী যাত্রা শুরু করেছে। (তবে জোটবদ্ধ এই বাহিনীর পরিণামে কি হয়েছে, তা গোপন করা হবে)।
ইমাম মাহদির দলকে ধ্বংস করতে যাওয়া বাহিনীর বায়দা প্রান্তরে মাটির নিচে ধ্বসে যাওয়ার যে কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সে পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যা, বানোয়াট, ধোঁকা এবং জাদুময়ী অপপ্রচারের আন্দাজ আপনি করতে পারেন।
সারা বিশ্বের জনসাধারণকে মিনার প্রান্তরের বিভিন্ন লাশের ছবি বার বার বিভিন্ন চ্যানেলে টিভি স্ক্রিনে দেখানো হবে আর ইমাম মাহদিকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী করে ‘স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলতে থাকবে। আর সাথে থাকবে সুন্নতি লেবাসধারী সরকারী/দরবারি আলেমদের কুরআন হাদিসের আলোকে পুরো ঘটনার অপব্যাখ্যাওয়ালা টক শো।
আমরা ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছি, বিভিন্ন ভূখণ্ডে কিভাবে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়ে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে দাজ্জালি মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাধারণ মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে। আর এটি তো আরও অনেক বড় ব্যাপার। মিডিয়ার চালে চলমান এমন অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমান নামধারীরা সেদিন ইমাম মাহাদির কথা মানা তো দূরের কথা, এদের মুখ থেকে কি ধরনের সব প্রতিক্রিয়া বের হতে থাকবে …… এর আন্দাজ করা কঠিন নয়।
পক্ষান্তরে ঐ সকল ব্যক্তি যারা বিবিসি/সিএনএন এর মতো পশ্চিমা দাজ্জালি মিডিয়া ও তাদের বিভিন্ন ভাষাভাষী দালাল মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, সত্যকে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র কাউকে ভয় করে না, কারও সাথে আপোষ করে না, যাদের অন্তর সদা হক্ক গ্রহণে উন্মুখ – তারা যদি পাহাড়ের গর্তেও অবস্থান করে, ইমাম মাহদির আবির্ভাবের জ্ঞান তাদের ঠিকই হয়ে যাবে।
যেহেতু “রিসালাত আল খুরুজ আল মাহাদি” কিতাবের ১০৮ পৃষ্ঠায় এসেছে,
“১৪০০ হিজরির পরে মানুষ ইমাম মাহদিকে ঘিরে একত্রিত হবে” (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)
আর “আসমাল মাসালিক লিয়্যাম মাহাদিয়্যা মালিকি লি কুল্লু-ইদ দুনিয়া বি ইম্রিল্লাহিল মালিক” কিতাবে কালদা বিন জায়েদ ২১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ
“১৪০০ হিজরির সাথে আরও বিশ বা ত্রিশ বছর যোগ কর। এরপরে কোন এক সময়ে মাহদির আবির্ভাব হবে…”। (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)
তাই বর্তমান ১৪৩৫ হিজরিতে এসে সামনের দিনগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর উপর সিরিয়াতে বনু কালব গোত্রের দ্বিতীয় শাসক (দ্বিতীয় সুফিয়ানি) এবং তার বর্তমান কার্যক্রম।
হযরত আরতাত (রাঃ) বলেন,
“দ্বিতীয় সুফিয়ানির জামানায় বিকট এক আওয়াজ আসবে। আওয়াজটি এতই বিকট হবে যে, প্রত্যেক গোত্রই মনে করবে – তাদের নিকটবর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে”। (আল ফিতান, ৮৫০)

তাই, কোন উপসংহারে না পৌঁছালেও বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে হাদিসে বর্ণিত মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর।