যে ১০টি কাজের মাধ্যমে আপনি হতে পারেন একজন উত্তম স্ত্রী

হাদিসে আছে যে, ‘স্বামীই হচ্ছে স্ত্রীর জান্নাতের চাবি। সুতরাং ইসলাম স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে দিয়েছে সম্মান ও মর্যাদা’। কিভাবে আপনি একজন উত্তম স্ত্রী হবেন? দাম্পত্য জীবন সুখী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম কাজ হলো মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

আল্লাহপাক মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে জোড়ায় জোড়ায় বিভক্ত করে দিয়েছেন। নারী পুরুষের এই জোড়া আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। অনেকে তার ইচ্ছামতো করে জীবন সঙ্গী নির্ধারণ করতে চায় কিন্তু সেটা করতে পারে না। কেননা মহান আল্লাহ তার জীবন সঙ্গী হিসেবে পছন্দের সেই নারীকে নির্ধারণ করে রাখেন নি। ইসলাম স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা। একটি হাদিসে আমাদের রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম পুরুষ সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম, আমি আমার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম ব্যক্তি’। আরও একটি হাদিসে এমনও আছে যে, ‘স্বামীই হচ্ছে স্ত্রীর জান্নাতের চাবি। সুতরাং ইসলাম স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে দিয়েছে সম্মান ও মর্যাদা’। একজন স্ত্রী স্বামীর কাছে কিভাবে উত্তম স্ত্রী হতে পারবেন এমন ১০ টি ইসলামী টিপস উল্লেখ করা হলো-

১. দাম্পত্য জীবন সুখী হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম কাজ হলো আল্লাহ মহানের কাছে দোয়া করা- স্ত্রীর প্রথম কর্তব্য হলো দোয়া করা। আসলে আমাদের জীবনের সকল ভালো বিষয়গুলোই হচ্ছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। সুতরাং আল্লাহকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আল্লাহই পারেন আমাদের দুনিয়ার বৈবাহিক জীবনে সফলতা দান করতে।  এজন্য একজন স্ত্রীকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করতে হবে- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের বৈবাহিক জীবনকে উত্তম রূপে যাপন করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে জান্নাত দান করুন।

২. স্বামীর কথা শোনা এবং তার আনুগত্য করা- স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীর আনুগত্য করা। কেননা স্বামীই হচ্ছে ঘরের কর্তা সুতরাং তাকে তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার দেওয়াই হচ্ছে একজন আদর্শ স্ত্রীর কর্তব্য।

৩. স্বামীকে সব সময় খুশি রাখার চেষ্টা করা- স্বামীকে সব সময় খুশি রাখা। হাদিসের‌ ভাষ্য হলো- স্বামীই হচ্ছে স্ত্রীর জান্নাতের চাবি। আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘কোন নারী যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট তাহলে সে জান্নাতে যাবে’। সুতরাং একজন আদর্শ স্ত্রীর সব সময়ের কামনা হবে স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখা।

৪. ঝগড়া এবং সব ধরনের রাগারাগি করা থেকে বিরত থাকা- কারণ ছোট একটি রাগারাগি হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্বের কারণ। হয়তো স্ত্রীর কোনো দোষ নেই, এমনকি স্ত্রী কোনো দোষ করেনি। তবুও স্ত্রীর উচিত হবে, সরি বলে পরিস্থিতিকে অনুকূলে নিয়ে আসা। নিজেদের মাঝের কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ না করা। কেননা প্রতিবাদ করলেই মূলত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতির সূচনাতেই যদি স্ত্রী বলে সরি..। আসো আমরা মিলে যাই। তাহলে কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব হবে না।

৫. স্বামীকে তার ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ জানানো- একজন আদর্শ স্ত্রী যখন স্বামীকে তার ভালো কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাবে তখন স্বামী খুশি হবেন। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। আমাদের সমাজের যে সকল নারীরা এমন করেন না তাদের বৈবাহিক জীবন খুব একটা ভালো হয় না।

৬. স্বামীর সাথে আড্ডা দেওয়া- এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ পুরুষদের স্বাভাবিক স্বভাব হচ্ছে তারা হৃদয়গ্রাহী ও হাস্যোজ্জ্বল নারীদের পছন্দ করে। আমাদের নবী (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, ‘হে জাবের! তুমি এমন নারীকে বিবাহ করো যে তোমাকে আনন্দ দেবে এবং তুমিও তাকে আনন্দ দেবে’।

৭. নিজে সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল থাকুন-  অনেক আগে থেকেই নারীরা ঘরে গয়না পরতো ও সাজসজ্জা করে থাকতো। পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘তোমার কাছে যেই ধরণের গয়না আছে তুমি তা পরো এবং সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করো তোমার স্বামীর জন্য’। সুতরাং একজন আদর্শ নারীর কর্তব্য হবে এই আর্দশকে অনুসরণ করা।

৮. হুর আল-আইনের (জান্নাতি নারী) বৈশিষ্ট্যগুলি পর্যালোচনা করুন এবং তাদের অনুকরণ করার চেষ্টা করুন- কেননা কুরআন ও হাদিসে জান্নাতি নারীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে সেই বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করার চেষ্টা করুন।

৯. স্বামী কাজ থেকে ঘরে ফিরলে তার যত্ন নিন- ধরুন আপনার স্বামী এখন অফিস শেষে বাসায় ফিরবে সুতরাং আপনি আপনাদের বাসাটাকে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রাখুন, নিজে ভালো কাপড় পরিধান করুন এবং সন্তানদের ভালো কাপড় পরিধান করান। এমনটাই একজন পুরুষের কাম্য। আর এর মাধ্যমেই মূলত স্বামী ও স্ত্রীর বৈবাহিক জীবনে সুখ ও শান্তি বৃদ্ধি পায়।

১০. স্বামীর হৃদয় জয় করার জন্য আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন আল্লাহ আপনাকে সকল প্রকার সৌন্দর্য দান করেছেন। আপনি আপনার এই সকল সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে আপনার স্বামীর হৃদয়কে জয় করুন।

সূত্র : মুসলিমস্টোরিজ.টপ

প্রিয় ইসলাম/সিফাত বিনতে ওয়াহিদ

স্বামীকে সুখে রাখার ১০টি টিপস

স্ত্রীকে সুখে রাখা যেমন স্বামীর কর্তব্য, স্বামীকে সুখে রাখাও স্ত্রীর কর্তব্য। ঠিক কী করলে যে স্বামীকে সুখে রাখা যায়, সেই চিন্তা সব মেয়েদেরই থাকে। রইল প্রয়োজনীয় কিছু টিপস।
স্বামীকে ভাল রাখতে চান না, এমন মহিলা কিন্তু খুব কমই সংখ্যায়। অনেকেই হয়তো স্বামীর সঙ্গে নানা বিষয়ে তুলকালাম করেন অথবা কথায় কথায় অভিযোগ করেন কিন্তু সব স্ত্রীই চান স্বামীকে ভাল রাখতে। হয়তো ঠিক কীভাবে ভাল রাখা যায়, সেই সূত্রটা খুঁজে পান না।

১) সব সময়ে হাসিখুশি থাকুন। মনকে পজিটিভ রাখুন। তবেই সংসারে সুখ-শান্তি থাকবে। কাজের পরে বাড়ি ফিরে আপনার হাসিমুখ দেখে স্বামীরও ভাল লাগবে।

২) রান্নার হাতটি ভাল করুন। সব ধরনের পদ রাঁধতে না পারলেও স্ন্যাকস, ডেজার্ট বা কোনও বিদেশি ডিশ রপ্ত করুন আর ছুটির দিনে সে সব বানিয়ে স্বামীকে তাক লাগিয়ে দিন। বউ যেমনই হোক, বউয়ের রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন না এমন স্বামী কমই আছেন।

৩) স্বামীর ফোনে মাঝরাত্তিরে কারও কল এলেও কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না, যতক্ষণ না তিনি নিজে কিছু বলছেন। স্বামী যদি লুকিয়ে প্রেমও করে থাকেন তবে চেঁচামেচি-ঝামেলা করে কিছু করতে পারবেন না। মাঝখান থেকে নিজের আত্মসম্মান খোয়াবেন। বরং স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করুন। আরও বেশি ভালবাসুন। এতেই বরং আলগা প্রেম ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪) বিছানায় স্বামীকে যথাসম্ভব খুশি রাখুন। নিজের ইনহিবিশন থেকে বেরিয়ে আসুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যৌনতার ধরনধারণও পালটে গিয়েছে। সে সব বিষয়ে জানুন। বিশেষ করে ওরাল সেক্স, রোল প্লে ইত্যাদি প্রয়োগ করুন। যে স্বামী বিছানায় তৃপ্ত থাকেন, তিনি বাইরে যা কিছু করুন না কেন, দাম্পত্য অটুট রাখতে চান।

৫) স্বামীর  সেবাযত্ন করুন। কারণ, তিনি আপনার ভালবাসার মানুষ। মাঝে-মধ্যে তাঁকে বডি মাসাজ করে দিন, মাথায় অয়েল মাসাজ করে দিন।

৬) স্বামীকে মিথ্যে কথা কখনও বলবেন না। আর এমন কিছু কখনও করবেন না যা স্বামীকে বলতে পারবেন না। সম্পর্কের স্বচ্ছতা স্বামীকে সুখে রাখার প্রথম এবং প্রধান শর্ত।

৭) নিজেকে সব সময়ে আকর্ষণীয় রাখবেন। এর জন্য পার্লারে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতেই নিয়মিত ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করুন। আর সব সময় পরিচ্ছন্ন, প্রিম অ্যান্ড প্রপার থাকুন। স্বামী হুট করে কফি খেতে যাওয়া বা সিনেমা দেখার প্ল্যান করলে যাতে বেরিয়ে পড়তে পারেন।

৮) স্বামীর মতামতকে গুরুত্ব দিন। তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ভালভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন। তেমন মারাত্মক কোনও ইস্যু না হলে স্বামীর মতামতের বিরোধিতা করবেন না। সোজা কথায় মেল ইগো-কে একটু আধটু বুস্ট করুন।

৯) স্বামীর হবিকে নিজের হবি করে নিন। সেটা যাই হোক না কেন। এতে স্বামীর ভালবাসা অনেক গুণ বে়ড়ে যাবে।

১০) বাড়িতে স্বামীর বন্ধুবান্ধব এলে কখনও রাগ করবেন না। স্বামী বন্ধুদের সঙ্গে যত সময়ই কাটান না কেন, কখনও অভিযোগ করবেন না। বরং স্বামীর বন্ধু ও তাঁদের পরিবারদের আপন করে নিন। তাঁদের স্ত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলুন।

সফল স্ত্রী হবার জন্য ১০ টি টিপস্

১. আল্লাহর কাছে বিবাহ এবং সফল সামাজিক সম্পর্কের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা।

– জগতের সকল ভাল কিছুই আসে আল্লাহর তরফ থেকে।আল্লাহর দয়া ছাড়া ইহকাল কিংবা পরকালের শান্তি সম্ভব নয় – তাই তার দয়া প্রার্থনা করতে ভুলবেন না।

২. স্বামীর কথা শুনুন এবং সম্মান করুন।

– স্বামীকে সম্মান করা বাধ্যতামুলক। আপনার স্বামী সংসারের প্রধান ব্যক্তি। তাকে তার প্রাপ্প অধিকার এবং সম্মান দিন।

৩. সর্বদা স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখার উপায় অন্নেষন করুন – যেহেতু তিনি আপনার বেহেস্তের চাবি।

– হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, যদি কোন নারী এমন কোন ঘরে/রাজ্যে মৃত্যুবরণ করে যেখানে তার স্বামী তার সাথে অনেক সুখে ছিলেন, সেক্ষেত্রে উক্ত নারী বেহেস্তবাসী হবার সম্ভাবনা আছে।

৪. যেকোন প্রকার তর্ক-ই ঘরে আগুন দেয়ার সমতুল্য।

– “আমি অত্যন্ত দুঃখিত” এ কথা বলে যেকোন পরিস্থিতি দমন করা – এমনকি যদি আপনি জানেনও এটা আপনার ভুল নয়। আপনি যখন তর্ক করছেন – তার মানে আপনি জলন্ত আগুনে কেরসিন তেল ডালছেন। যাচাই করে দেখুন কোন একটি তর্কের ক্ষেত্রে আপনি যখন বলবেন “দ্যাখ, আমি এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি”।

৫. ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পুনরাবৃত্তি করুন – যখন আপনার স্বামী আপনার কিংবা সংসারের জন্য ভাল কোন কাজ করে।

– আবারো তাকে ধন্যবাদ জানান। এটি একটি খুবই গুরুত্বপুর্ন কৌশল, স্বভাবতই মানুষ কোন একটি কাজের বিনিময়ে সুবিদাভোগীদের কাছে নুন্যতম ধন্যবাদ টুকু আশা করে। অপরদিকে স্বার্থপরতা যেকোন মানুষের মনে আগুন জ্বালাতে পারে।

৬. আপনার স্বামীর সাথে কৌতুক করুন – সুযোগ থাকলে অবসরে ইনডোর গেইম খেলতে পারেন।

– পুরুষের একটি গোপন কথা: তারা এমন নারী খোজে যে হালকা মনের এবং কৌতুকরসবোধ এর অধিকারী। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) সাহাবা জাবির কে বলেছেন এমন নারীকে বিয়ে করার জন্য যে তাকে হাসিখুশি রাখতে পারবে এবং যাকে সে হাসিখুশি রাখতে পারবে।

৭. ঘরে যথাসম্ভব সেজেগুজে (পরিচ্ছন্ন কাপড়ে) থাকা এবং নিজের সাজগোজ স্বামীকে উৎসর্গ করে করা।

– ছোট বয়সে মেয়েদের যেমন কানফুল এবং সুন্দর জামাকাপড় পরাতে পিতা-মাতা পছন্দ করেন – বিয়ের পরও স্বামীর উদ্দেশ্যে একই রকম ভাবে সুন্দরীর অবয়বে উপস্থিতি স্বামীকে ভালবাসায় আগ্রহী করবে। এবং এর মাধ্যমে পরনারীর প্রতি আসক্তি নিয়ন্ত্রন সম্ভব হবে।

৮. বেহেশত্ এর হুর দের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষন করুন এবং তাদের অনুকরনের চেষ্টা করুন।

– আল কোরআন এবং বিভিন্ন হাদিসে বেহেশত্ এ নারীদের স্বরূপ কেমন হবে তার বিভিন্ন বর্ননা দেয়া আছে। যেমন তারা সিল্কি শাড়ী পরবে, তাদের কালো ডাগোর চোখ থাকবে, ইত্যাদি। এটি চেষ্টা করে দেখুন – আপনার স্বামীর উদ্দেশ্যে সুন্দর সাজগোজ করুন, চোখে কাজল মাখুন – টানা টানা আঁখি পুরুষের আকর্ষনের বিষয়। স্বামীর জন্য নিজের সৌন্দর্য্য উৎসর্গ করুন।

৯. যখন আপনার স্বামী কাজ শেষে ঘরে আসে – তাকে হাসিমুখে অভিবাদন করুন এবং তার দিনের খোঁজ-খবর নিন।

– কল্পনা করুন স্বামী সারাদিনের পরিশ্রমের পর ঘরে এসে দেখলো পরিচ্ছন্ন ঘর, তার রাতের খাবার পরিবেশিত হচ্ছে ভালবাসা মিশ্রিত সুন্দর করে কাপড় পরে থাকা তার স্ত্রী, সন্তানদের সুন্দর হাসি – পরিপাটি জামা কাপড়, গোছানো শোবার ঘর… এ সকল বিষয় আপনার প্রতি তার ভালবাসা কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে?

একই ভাবে এর বিপরীত চিত্রটি চিন্তা করুন!!!

১০. স্বামীর মন জয় করার জন্য আপনার ফিতনাহ্ (নিজের বিশ্বাস পরীক্ষা করার প্রচেষ্টা) ব্যবহার করুন।

– প্রত্যেক নারীর আল্লাহ প্রদত্ত একটি মুল্যবান অলংকার আছে।ফিতনাহ্ আল্লহর দান এই অলংকারের ব্যবহার করে আপনার স্বামীর মন জয় করতে পারেন সহজেই।

ছয়টি বিষয় – যা সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়ঃ

১. খারাপ ব্যবহার

২. অবহেলা করা

৩. মিথ্যে কথা বলা

৪. ওয়াদা ভঙ্গ করা

৫. যোগাযোগ এড়ানো

৬. যে ছয়টি নিয়ামক সম্পর্ককে শক্তিশালী করে তা নিয়ে সন্দেহ করা, যেমন –

*ভাল আচরন

*সহায়তা

*বিশ্বাস

*সম্মান

*আনন্দ দান

*ভুল ক্ষমা করা

পরিশিষ্টঃ

* এই পোষ্ট সম্পুর্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেয়। লিখাটি পড়ে অনেকে মনে করতে পারেন ধর্ম শুধু পুরুষদের প্রধান্য দেয় কিনা? ধর্মে অবশ্যই নারীর স্থান অনেক উপরে দেয়া হয়েছে – যা এই ছোট পরিসরে আলোচনা না করাই শ্রেয়। নাস্তিকদের এ পোষ্টটি ভাল লাগার কথা নয় (আশ্চর্য্যের সাথে লক্ষ্য করছি – ইদানিং আমাদের দেশে আশঙ্কাজনক হারে নাস্তিকবাদের ব্যপ্তি ঘটছে – ধর্মীয় অনুভুতি ছাড়া সমাজ থেকে পাপচার বিতাড়ীত করার বিকল্প কোন পথ নেই।

‘জিন্স পরা নারীরা হিজড়া সন্তানের জন্ম দেন’

যেসব নারীরা পুরুষের মতো জিন্স ও শার্ট পরেন তারা হিজড়া সন্তানের জন্ম দেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেরালাম কাসারাগড়ের রজিত কুমার নামের এক অধ্যাপক। শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শ্রেণীকক্ষে তিনি এক মন্তব্য করেন করেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ওই অধ্যাপক বলেন, যেসব নারী জিন্স, শার্ট ইত্যাদি পুরুষ পোশাক পরেন তারা হিজড়া সন্তান প্রসব করেন। শুধুমাত্র কেরালাতেই তিন লাখেরও বেশি হিজড়া রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই অধ্যাপক।

তিনি আরও বলেন, যেসব দম্পতির জীবনযাপন নারী, পুরুষ বিভাজন মেনে তারাই শুধু ভালো সন্তানের জন্ম দিতে পারে। এছাড়া অসৎ চরিত্রের বাবা মায়ের সন্তান অটিস্টিক বা সেরিব্রাল পালসির মতো অসুখে ভোগে।

এর আগে স্থানীয় তিরুঅনন্তপুরে মেয়েদের এক কলেজেও এমন দাবি করেছিলেন তিনি। তবে তার এমন মন্তব্যের পর বিপুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার উপায়

 

নারীসুলভ আচরণ করুন (যেমনঃ কোমল হওয়া), স্বামীরা তাদের স্ত্রীর জায়গায় কোন পুরুষ চায় না!

সুন্দর/আকর্ষণীও পোশাক পরুন। আপনি যদি গৃহিণী হন, সারাদিন ধরে রাতের পোশাক (ঢিলাঢালা আরামদায়ক পোশাক) পরে থাকবেন না।

ঘাম/মশলা জাতীয় গন্ধ থেকে পরিচ্ছন্ন ও সুরভিত থাকুন।

আপানর স্বামী বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার সাথে সাথে আপানার যাবতীয় সমস্যার কথা বলা শুরু করবেন না। তাকে কিছুটা মানসিক বিরতি দিন।

বার বার জিজ্ঞেস করবে না, ‘কি ভাবছ?’

অনবরত দোষারোপ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ আপনাকে আসলেই সত্যিকার অর্থে অভিযোগ করার মত কিছু দেন।

অন্যের কাছে নিজেদের স্বামী-স্ত্রীর সমস্যার কথা বর্ণনা করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন; এমনকি সাহায্য বা পরামর্শ চাওয়ার অজুহাতেও না! আপনি যদি মনে করেন আপনার বৈবাহিক সমস্যার আইনানুগ সমাধান প্রয়োজন, তাহলে এমন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে যান যেঃ

কোন অন্যায়ের ব্যপারে ভুল সংশোধনের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে দিতে পারে, যাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আবার সুন্দর সমন্বয়ে মিল হয়ে যায়, অথবা

উভয়পক্ষের সম্মতিতে সৌহার্দপূর্ণভাবে বিচ্ছেদ করাতে পারেন।

আপানর শাশুড়ির সাথে ভাল আচরণ করুন, যেমনটি আপনি চান আপানার স্বামী আপানার মায়ের সাথে করুক।

ইসলামে স্বামী স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানুন। অধিকার আদায়ের চেয়ে আপনার দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদনের ব্যপারে আগে সজাগ হন।

যখন সে ঘরে আসে, দরজায় এমন ভাবে ছুটে যান যেন আপনি তারই অপেক্ষায় ছিলেন। হাসিমুখে তাকে সালাম দিন।

আপনার বাসস্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন; অন্তত আপনার স্বামী যতটুকু পরিচ্ছন্ন দেখতে পছন্দ করে।

তাকে এমন বিষয়ে প্রশংসা করুন যে বিষয়ে তিনি নিজে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নন (যেমন, চেহারা, বা বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি)। এটা তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

তাকে বলুন, স্বামী হিসেবে তিনি শ্রেষ্ঠ।

তার পরিবার পরিজনের সাথে প্রায়ই যোগাযোগ করুন।

তাকে সহজ কোন গৃহস্থালি কাজ দিন, কাজটি করে ফেললে তাকে ধন্যবাদ জানান। এতে সে আরও উৎসাহিত হবে।

সে যখন কোন একঘেয়ে কথা বলে, তার কথা ধৈর্য ধরে শুনুন। মাঝে মাঝে তাকে প্রশ্নও করুন যাতে সে বুঝতে পারে আপনি তার কথা আগ্রহ নিয়ে শুনছেন।

তাকে ভাল কাজে উৎসাহিত করুন।

তার মেজাজ খারাপ থাকে, তাকে কিছুটা সময় একা থাকতে দিন। ইনশাআল্লাহ, একসময় তার মেজাজ ঠিক হয়ে যাবে।

আপানাকে খাদ্য ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। এটি অনেক বড় ব্যপার।

সে যদি আপানার সাথে রেগে গিয়ে চেঁচাতে থাকে, আপনি চুপ থেকে তাকে চেঁচাতে দিন। দেখবেন আপনাদের বিবাদ অনেক দ্রুত থেমে গেছে। পরে যখন সে শান্ত হবে, তখন আপনি আপনার কথা বোঝাবেন।

যখন আপনি তার উপর রেগে যান, তখন বলবেন না যে তিনি আপনাকে রাগিয়েছেন, বরং বলুন তার কাজে আপনি আপসেট হয়েছেন। আপনার রাগকে তার দিকে নির্দেশ না করে তার কাজ বা উদ্ভুত পরিস্থিতির দিকে নির্দেশ করুন।

মনে রাখবেন, আপনার স্বামীরও আবেগ অনুভুতি আছে, কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

তাকে তার বন্ধুদের সাথে কোন রকম অপরাধবোধ ছাড়া কিছু সময় কাটাতে দিন, বিশেষতঃ যদি তারা ভাল মানুষ হয়। তাকে বাইরে যেতে উৎসাহ দিন যাতে সে নিজেকে ঘরের ভেতর ‘আবদ্ধ’ বোধ না করে।

স্বামী যদি আপনার কোন সামান্য কাজে বা অভ্যাসে বিরক্ত হয় (যেটি আপনি সহজেই নিয়ন্ত্রন করতে পারেন), সেটি করা বন্ধ করে দিন।

আপনার মনের কথা তাকে খোলাখুলি বলতে শিখুন; সে সবসময় বুঝে নেবে বা অনুমান করতে পারবে এমন চিন্তা করবেন না। আপনার অনুভূতি প্রকাশ করা শিখুন।

ছোট ছোট বিষয়ে রেগে যাবেন না।

তার সাথে হাসি মশকরা করুন, যাতে আপনাদের দুই জনের মনই প্রফুল্ল হয়।

তাকে বলুন, আপনি স্ত্রী হিসাবে সেরা, এবং এমন বিষয়ে নিজের উল্লেখ করুন যেটা আপনি জানেন আসলেই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু অহংকার করে নয়, বিনয় এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে।

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- “The way to a man’s heart is through his stomach” তাই তার পছন্দের খাবার তৈরি করা শিখুন।

আপনার পরিচিত বা আত্মীয় স্বজনের কাছে কক্ষনও তার বদনাম করবেন না। তারা যদি একথা মেনে নেয় ও বিশ্বাস করা শুরু করে, তাহলে তা আপানকেই পাল্টা আহত করবে। আপনি নিজেই তখন হীনমন্যতায় ভুগবেন এই ভেবে যে আপনার স্বামী খারাপ, আবার অন্যরাও ভাববে যে আপনার স্বামী খারাপ। আল্লাহ বলেছেন –

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ

“ধ্বংস ওই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে পেছনে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।” (সুরা হুমাজাঃ১)

 

বুদ্ধিমত্তার সাথে আপনার সময়টাকে কাজে লাগান, এবং আপনার দায়িত্ব সুন্দরভাবে সম্পাদন করুন। এতে আপনিও খুশি হবেন, আপনার স্বামীরও ভাল লাগবে।

উপরের  সবগুলো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করুন; দেখবেন আপনি যা করছেন আল্লাহ তায়ালা তাতে বরকত দেবেন।

স্বামী স্ত্রী একে অপরের পছন্দ-অপছন্দ, করণীও-বর্জনীয় বিষয়গুলো বিজ্ঞতার সাথে আলোচনা করবেন। স্বামীকে এমন ভাবে আদেশ বা নির্দেশ দেবেন না যেন মনে হয় সে আপনার ‘অধীনস্ত’।  বরং কুরআনে বলা হয়েছে –

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

তারা তোমাদের জন্য আবরণ, এবং তোমরা তাদের জন্য আবরণ (সুরা বাকারাঃ১৮৭)

 

আপনার স্বামীকে বারবার বলুন আপনি তাকে কত ভালোবাসেন।

আপনার স্বামীর সাথে খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করুন, এবং তাকে জিততে দিন।

সুস্থ থাকুন, এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন, যাতে বলিষ্ঠ ভাবে একজন মা, স্ত্রী ও গৃহিণীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ এতে আপনি মোটা হবেন না।

আচার-আচরনে মার্জিত থাকুন (যেমনঃ ঘ্যানঘ্যান করা, অতি উচ্চস্বরে হাসা বা কথা বলা, থপথপ করে সশব্দে হাঁটাচলা করা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন।)

স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে যাবেন না, আর তাকে না জানিয়ে তো অবশ্যই বের হবেন না।

খেয়াল রাখুন তার পরিধেয় কাপড়গুলো যেন নিয়মিত পরিষ্কার থাকে।

জরুরি অথবা বিতর্কিত বিষয়ে তার সাথে এমন সময় আলোচনা করবেন না যখন সে ক্লান্ত অথবা তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক আলোচনা করুন।

আপনার স্বামী আপনার জন্য কষ্ট করে কাজ করে উপার্জন করছেন এবং আপনার খাওয়া-পরার বন্দোবস্ত করছেন- এই ব্যপারটির সবসময় প্রশংসা করুন। এতে তার কাজের স্পৃহা বাড়বে।

আপনার চুল সব সময় আঁচড়ানো রাখুন।

মাঝে মাঝে উপহার দিন। উপহার স্বরূপ তাকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসও দিতে পারেন।

তার আগ্রহ ও শখের ব্যপারে আপনিও আগ্রহী হওয়ার চেষ্টা করুন।

অতিরিক্ত কেনাকাটা করবেন না…তার সমস্ত টাকা খরচ করে ফেলবেন না।

তার জন্য নিজেকে আকর্ষণীও করে সাজান, তার সাথে খুনসুটি করুন।

আপনার ত্বকের যত্ন নিন, বিশেষতঃ চেহারার। চেহারাই আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

অন্তরঙ্গ ব্যপারে যদি আপনার কোন অসন্তুষ্টি থাকে, তাকে জানান, তার সাথে কথা বলুন। তাকে বুঝতে সাহায্য করুন। নীরব থেকে পরিস্থিতি খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।

প্রতিদিন, প্রতি ওয়াক্তের নামাজে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনাদের মধ্যকার ভালবাসার ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে দেন এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন। দোয়ার মত কার্যকরী কিছুই নেই। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা তখনই থাকে যখন আল্লাহ তাদের মাঝে এটা দেন।

কক্ষনো নিজের স্বামীর সাথে অন্যদের স্বামীর তুলনা করবেন না। যেমনঃ কখনও বলবেন না, ‘অমুকের স্বামী তো এমন করে না, তুমি কেন এমন কর…’

আপনার স্বামী যেমন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। কারণ, কেউ নিখুঁত নয়, আপনিও নন। আর যদি, ত্রুটিহীন, নিখুঁত সঙ্গী চান তাহলে জান্নাতে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ইনশাআল্লাহ সেখানে আপনি এবং আপনার স্বামী দু’জনেই হবেন নিখুঁত ও ত্রুটিহীন।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় তাকে ডাকুন এবং আপনার সাথে তাকেও নামাজ পড়তে বলুন।

আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনাদের দুজনকেই মুত্তাকী হতে সাহায্য করেন।

সর্বাগ্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করুন। যদি সমস্ত স্ত্রীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টায় রত থাকে, নিশ্চিতভাবেই তারা তাদের স্বামীদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারবে। আর মনে রাখবেন, আল্লাহ যদি আপনার উপর সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে ফেরেশতারা আপানাকে ভালবাসবে, সমস্ত সৃষ্টি আপনাকে ভালবাসবে।

আল্লাহ যেন সকল স্বামী স্ত্রীর বন্ধনকে হেফাজত করেন, এবং দ্বীনের শ্রেষ্ঠ আদব সমূহ বোঝার এবং তা কাজে লাগিয়ে সংসার জীবনকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার তৌফিক দেন। আমীন।

 

 

 

আঙুল তুলে চাকরি খোয়ালেন নারী

আঙুল তুলে চাকরি খোয়ালেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাড়িবহরের দিকে আঙুল তুলেছিলেন এক নারী। ছবিতে ধরা পড়ে এ ভঙ্গিমা। আর অমনি ধৃষ্টতার অভিযোগ। এ কারণে চাকরিটাও ঘ্যাচাং! হ্যাঁ, বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে।

ট্রাম্পের গলফ রিসোর্টের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে এ ঘটনা ঘটে। ২৮ অক্টোবরের এই ঘটনার ছবিটি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

বিবিসি, এএফপি ও হাফিংটন পোস্টের খবরে জানা যায়, অনলাইনে জুলি ব্রিস্কম্যানের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, তিনি সাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের গাড়িবহর তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছে। সেদিকে তিনি মধ্যমা তুলে দেখাচ্ছেন। এই অপরাধের দায়ে জুলিকে প্রকৌশলবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আকিমা এলএলসি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কেন জুলিকে বরখাস্ত করা হলো, এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি এলএলসি।

জুলি ব্রিস্কম্যান হাফিংটন পোস্টকে জানান, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি অশোভন আচরণ করেছেন। এই ছবি আবার টুইটার ও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এটি তাঁদের নীতির পরিপন্থী।

তবে জুলির যুক্তি হলো, কর্মঘণ্টা চলাকালে তিনি এই আচরণ করেননি।

চাকরি হারালেও নিজের এই আচরণের জন্য মোটেই অনুতপ্ত নন ৫০ বছর বয়সী জুলি। হাফিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের এই পরিস্থিতিতে আমি ক্ষুব্ধ। মর্মাহত।’

ফটোসাংবাদিক মাইক সিমালোস্কি এএফপিকে বলেন, প্রেসিডেন্টের গাড়ি যাওয়ার সময় প্রায়ই মানুষ এভাবে অশোভন ইঙ্গিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

‘ট্রাম্প সমর্থক ছাড়া রুমমেট চাই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রুমমেটের জন্য ট্রাম্প সমর্থকদের আবেদন করার দরকার নেই এমন বিজ্ঞাপন দিয়েই আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী। ইরানি বংশোদ্ভূত ওই মার্কিন নাগরিকের নাম শাহার কিয়ান। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের। খবরে বলা হয়, শাহার কিয়ান পত্রিকার শ্রেণিভুক্ত বিজ্ঞাপনের পাতায় রুমমেট চেয়ে আবেদন করেন। এতে রুমমেট হতে আগ্রহীদের জন্য তিনি বেশ কিছু শর্ত দিয়েছেন।

কিয়ানের শর্তের মধ্যে যেমন মাদকাসক্ত, পোষা প্রাণী ও মাংস বিক্রেতারা রুমমেট হতে পারবেন না, তেমনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেন এমন ব্যক্তিও আবেদন করার যোগ্য নন। এতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, ট্রাম্প সমর্থকদের আবেদন করার দরকার নেই।

গত ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩ বছর বয়সী কিয়ানই প্রথম যিনি পত্রিকায় এভাবে একটি দলের সমর্থকদের ‌‘না’ জানিয়ে বিজ্ঞাপন দিলেন। কিয়ান পড়ালেখার পাশাপাশি মধ্যপাচ্য ও আফ্রিকানদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এনজিও ‘অ্যামিডেস্টে’ চাকরি করেন। ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন এই তরুণী তার ভবনের শীর্ষতলার ওই রুম ভাগাভাগির জন্য এক হাজার ৩০০ ডলার প্রদানের কথা বলেছেন। বাড়িটির নিচতলায় তার বাবা-মা বসবাস করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবেশনারি হিসেবে যারা চাকরি করেন, এভাবে একাধিক ব্যক্তি রুম ভাভাভাগি করে বসবাস করেন। এখানে মাঝারি ধরনের একটি রুমের মাসিক ভাড়া এক হাজার ৯৯০ ডলারের মতো। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর রাজনৈতিক ডামাডোলে ভাড়ার এই হার বেড়েই চলেছে। এরপর থেকে টুইটার, রেডিট, ক্রেগলিস্ট এবং ফেসবুকে রুম ভাগাভাগি করে বসবাসের জন্য বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনও বেড়ে গেছে।

আইফোন ৮ আসছে…

প্রযুক্তি ডেস্ক: আইফোন মানেই উন্মাদনা। প্রযুক্তিপ্রেমীরা অ্যাপলের যেকোনো পণ্যের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতেও রাজি আছেন। আর আইফোন ৮ এর জন্য আগ্রহ তো সীমা ছাড়িয়েছে। কারণ অ্যাপলের ১০ বছর পূর্তিতে বিশেষ সংস্করণ হিসাবে আসছে এই মডেলটি। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার চাহিদা থাকবে অনেক বেশি। প্রতিবারই ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেয়ে যায় নির্মাতা। সেই কথা মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই অনেক বেশি পরিমাণ আইফোন ৮ বানানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য বারের চেয়ে অনেক আগেই নতুন ফোন বানানো শুরু করবে কম্পানি। স্মার্টফোনের ধারণাই বদলে যাবে বলে আশা করছেন ভক্তরা। তাই আইফোন ৮ এর জন্য ক্রেতাদের লাইন যে ইতিহাস গড়বে তা আশা করাই যায়। ২০০৭ সালে প্রয়াত স্টিভ জবস যখন প্রথম আইফোন বাজারে আনেন, সেই দিনক্ষণের কয়েক মাস বাদেই আসছে আইফোন ৮।

এ বছরের জুন থেকে সাপ্লাই চেইন শুরু করবে অ্যাপল। আইফোন এসই, আইফোন ৭ ও ৭ প্লাস যে সময়টাতে বানানো শুরু হয়, তার অনেক আগেই থেকেই শুরু হবে আইফোন ৮ এর উৎপাদান প্রক্রিয়া। এ ছাড়া আইফোন ৭ এবং ৭ প্লাস উৎপাদনও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

নতুন মডেলকে বলা হচ্ছে আইফোন ৮। কিন্তু এর সঙ্গে বরাবরের মতো আইফোন ৭এস ও ৭এস প্লাস আসবে বলেও ধারণা করছেন অনেকে।

অনেকে বলছেন, বাজারে আসার পর যেন আইফোন ৮ এর অভাব না দেখা দেয় সে বিষয়ে এবার সব ব্যবস্থা করে রাখবে অ্যাপল।

তাইওয়ানের এক সূত্রের উল্লেখ করে ডিজিটাইমস দাবি করেছে, নতুন ফোনের ক্ষেত্রে আইফোন বরাবরের সরবরাহকারী ফক্সকনকে বাদ দিয়েছে। আরেক নির্মাতা জাবিলের কাছ থেকে স্টেইনলেস স্টিলের দেহ বানিয়ে নিচ্ছে অ্যাপল।

সেই আইফোন ৪এস-এ শেষবারের মতো স্টেইনলেস স্টিলের দেহ ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর অ্যাপল অ্যালুমিনিয়াম কেস বেছে নেয়। আবারো ফিরতে চায় তারা সেই স্টিলে।

গুজব রয়েছে, কার্ভড ওলেড ডিসপ্লে মিলবে এবারের মডেলে। তবে ওলেড ডিসপ্লের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন কম্পানির উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।

বারক্লেইস রিসার্চ অ্যানালিস্টদের মতে, চারদিকে কোনো সরু ফ্রেমে বন্দী থাকবে না পর্দা। ৫ ইঞ্চি এবং ৫.৮ ইঞ্চি পর্দার আইফোন আসেব নজরকাড়া ডিজাইন নিয়ে। ফ্রেম না থাকায় অনেক বড় দেখা যাবে পর্দা। আর কার্ভড স্ক্রিন হলে তো কথাই নেই।

যেহেতু পর্দার চারদিকে ফ্রেম থাকবে না, কাজেই আইফোনের আইকনিক হোম বাটন এবার না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেক গুজবে বলা হয়, আইফোন ৮ উন্নত থ্রিডি টাচ প্রযুক্তি নিয়ে আসবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় গত বছর কোন পাসওয়ার্ডটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে? আপনি হয়তো কয়েকবার মাথা চুলকে অনুমান করার চেষ্টা করবেন।

অনুমানের আগে জেনে নিন গতবছর সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডটি হচ্ছে ‘123456’। এমনকি গত বছরেও সবচেয়ে কম শক্তিসম্পন্ন পাসওয়ার্ডের তালিকার মধ্যে আছে ‘password’ ও ‘123456’। আর এ বছরে সবচেয়ে ব্যবহৃত পাসওয়ার্ডের তালিকায় জায়গায় পেয়েছে ‘123456789’ ও ‘qwerty’। অনলাইনে ফাঁস হওয়া প্রায় এক কোটি পাসওয়ার্ড বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সংস্থা কিপার সিকিউরিটি।

এক্সপার্টদের ইনফরমেশন অনুযায়ী শীর্ষ ১০টি পাসওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতে ছয় অক্ষর বা তার চেয়েও কম অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। ওই তালিকায় স্থান পাওয়া পাসওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে—‘12345678’, ‘111111’, ‘1234567890’, ‘1234567’, ‘password’, ‘123123’, ‘987654321’।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এখনকার পাওয়ারফুল পাসওয়ার্ড ভাঙার সফটওয়্যারগুলোর কাছে এসব দুর্বল পাসওয়ার্ড ভাঙা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়। যেসব ওয়েবসাইটে এই ধরণের পাসওয়ার্ড ব্যবহার হয় তার ইউজার হয় দায়িত্বজ্ঞানহীন কিংবা অলস। প্রায় ১৭ শতাংশ ইউজার তাঁদের অ্যাকাউন্টের সিকিউরিটি কোড ‘123456’ এই পাসওয়ার্ড দেন।

‘পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি হয়নি, বিশ্বব্যাংকই করাপ্ট’

পদ্মাসেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা অভিযোগের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি হয়নি এটা জেনেও তারা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে সেই বিশ্বব্যাংক ইটসেলফ দুর্নীতিবাজ। তারাই করাপ্ট। তারাই করাপ্ট গ্রাউন্ড এর উপর দাঁড়িয়ে আছে।

১২ ফেব্রুয়ারি রোববার জাতীয় সংসদের অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন। পদ্মাসেতুতে কানাডার আদালত কোনো দুর্নীতির প্রমান পায়নি এসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এনিয়ে কথা বলেন তিনি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে মতিয়া বলেন, আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, শক্রুতা চাই না। তাই বলতে চাই বিহেভ হিউম্যানলি এন্ড জেনন্টেলমেনলি।

তিনি বলেন, যখন টেলিভিশনের দেখলাম কানাডার আদালত রায় দিয়েছে পদ্মাসেতুর কোনো দুর্নীতি তারা পাননি। এসেনসিন লাভনিং তারাও নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে তখন আবেগে কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিজের জন্য এই সেতু করতে চাননি। সারা জাতির উপকারের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করেছিলেন। অথচ এটাকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংক নিজেদের কি মনে করে জানি না । তবে তারা এতটা শক্তিশালী না। তাদের শক্তি ৩০ লাখ লোকের রক্ত ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে উপহাস করার শক্তি তাদের নেই। এই স্বাধীন দেশের মানুষকে অপমান করতে পারে এই শক্তি বিশ্বব্যাংকের আল্লাতালা দেন নাই।

তিনি বিশ্বব্যাংককে উদ্দেশ্য করে আরো তিনি বলেন, “ওখানে কিছু লোক বইয়া আছে, রিটায়ার। কারো কারো আবার নানান ধরনের কানেকশন। তার ভিত্তিতে ওইখানে বইসে কিছু টাকা নিয়া নাড়াচাড়া করে তারপর লম্বা লম্বা কথা বলে। ’

তিনি টিআইবির সমালোচনা করে বলেন, প্রতিষ্ঠাটি বলছে পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি হয় নাই এজন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে জবাবদিহীতা চাওয়া উচিত। আমরা চাইব কেন? আমাদের কাছে তো প্রমাণই আছে। কিন্তু টিআইবি আপনারা কি করছেন? আপনার কৈফিয়ত চান না কেন? আপনারা তো সমস্ত কিছুতে আমাদের সরকারের কাছে কৈফিয়ত চান। আসলে আপনারা চাইতে পারবেন না। কারণ যাদের বিভিন্ন জায়গায় সুতায় বাধা তারা এটি চাইতে পারবে না।