সুবর্ণচরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে সংসদ সদস্য এর আর্থিক সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শামসু উদ্দিন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগষ্টকে স্মরণীয় করে রাখতে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব একরামুল করিম চৌধুরীর সহযোগীয়া সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ এর মাধ্যমে সুবর্ণচরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থী লাবিবাতুজ জাহান শাম্মি


এছাড়াও সূর্য্য উঠার সাথে সাথে অফিস, ব্যাংক বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পাতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপজেলায় অবসস্থিত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কবিতা আবৃতি, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, হামদ নাত প্রতিযোগিতা ও বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এই ছাড়া প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

আপন জুয়েলার্সের সাড়ে ১৩ মণ সোনা জব্দ হচ্ছে রবিবার

আপন জুয়েলার্স থেকে আটক করা সাড়ে ১৩ মণ সোনার কোনও বৈধ কাগজপত্র এর মালিক দেখাতে না পারায় তা অনুষ্ঠানিকভাবে জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। আগামীকাল রবিবার (৪ জুন) সকাল ৯ টায় সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে এই সোনা জব্দ করা হবে। তবে কোনও গ্রাহক যদি সোনা বা সোনার অলঙ্কার জমা রাখার কাগজপত্র দেখাতে পারেন, তাদের গচ্ছিত সম্পদও আগামীকালও ফেরত দেওয়া হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমরা র‌্যাব ও পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। কাল (রবিবার) একদিনেই সব কাজ সেরে ফেলবো।’

তিনি আরও জানান, এসব সোনা-হীরা ঢাকা কাস্টম হাউসের শুল্ক গুদামের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দকৃত সোনা ও হীরা শুল্ক আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। শুল্ক গোয়েন্দার ৫টি দল আগামীকাল সকাল থেকে এই জব্দ ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ও ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দারা আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাকের ৫টি শোরুমে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা সাময়িকভাবে আটক করে। এসব সোনা ও হীরার ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেনি আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষ। এগুলো পরে আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠানের জিম্মায় দেওয়া হয়। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনে আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে ৩ বার শুনানির সুযোগ দিলেও তারা এসব সোনা-হীরার কোনও প্রকার বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। তবে আপন জুয়েলার্সের মালিকপক্ষের দেওয়া ১৮২ জনের তালিকার মধ্যে ৮৫ জন প্রকৃত গ্রাহককে মেরামতের জন্য জমা রাখা প্রায় ২.৩ কেজি স্বর্ণালঙ্কার অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বিড়ালের কোলে হাঁসের বাচ্চার আশ্রয়

গ্রামে একটি কথা প্রচলিত আছে যে বিপদে পড়লে বাঘ ও হরিণে এক ঘাটে জল পান করে। এমনি একটি ছবি ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে বাঘ ও হরিণের বদলে এখানে আছে একটি বেড়াল ও হাঁসের বাচ্চা।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় মোরা আঘাত করার পরই ছবিটি বাংলাদেশী ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওয়ালে দেখা যাচ্ছে।

তবে জানা গেছে ছবিটি ঘূর্ণিঝড় মোরার সময়কার কোথায় তোলা কিনা এটি নিশ্চিত নয়।

ছবিতে দেখা যায়, হালকা হলুদ রংয়ের হাঁসের বাচ্চাটি পরম যত্নে আগলে রেখেছে বেড়াল। যেন বেড়ালটি হাঁসের বাচ্চাটির জন্য পরম নির্ভরতার আশ্রয়।

ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করে রেজওয়ানা নুপুর নামে এক নারী লিখেছেন, সব ভাষাতেই ভালোবাসা নিজের মত করেই তার জায়গা খুঁজে নেয়।

স্বাভাবিক হয়ে আসছে উপকূল

গত ২৬ মে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর ২৮ মে সকালে তা নিম্নচাপে এবং মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। নাম দেওয়া হয় মোরা।

সোমবার মোরা বাংলাদেশ উপকূলের ৩০৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ‘মহাবিপদ সংকেত’ দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গত ২৬ মে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর ২৮ মে সকালে তা নিম্নচাপে এবং মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়। নাম দেওয়া হয় মোরা।

সোমবার মোরা বাংলাদেশ উপকূলের ৩০৫ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ‘মহাবিপদ সংকেত’ দেখাতে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস নিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে রওনা হয় ঘূর্ণিঝড়টি।

বেলা ১টার দিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও দেখা দেয় চিকচিক রোদ। সোমবার রাতে আসার পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করে লোকজন। কোথাও কোথাও জেলেরা মাছ ধরতে শুরু করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

কক্সবাজার

মাইকে ঝড়ের খবর শুনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন কুতুবদিয়া পাড়ার আবদুল জলিল, চরপাড়ার ছেনোয়ারা বেগম, সমিতি পাড়ার মো. হালিমসহ অনেকে।

হালিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঝড় চলে গেছে। আমরাও চলে যাচ্ছি।”

অবশ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলছেন, এখনও তারা বাড়ি ফেরার অনুমতি দেননি। তার পরও কেউ কেউ চলে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ভয় ও আতঙ্ক থাকলেও কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৯টার পরই সূর্যর দেখা মেলে। বাতাসের তীব্রতাও ধীরে ধীরে কেটে যায়।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা সবাই নিজেদের ইচ্ছামাফিক বাড়িতে ফিরে গেছে।

আকাশ খুব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তবে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

ভোলা

মোরা চট্টগ্রামের দিকে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে অনেক জেলে মাছ ধরতে শুরু করেছে। ভোলা সদরে মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু জেলে ছোট ছোট নৌকায় নদীতে মাছ ধরতে নেমেছে।

ঝালকাঠি

জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানিয়েছেন, সোমবার রাতে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শ তিনেক লোক আশ্রয় নেয়। সকালে তারা ফিরে গেছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখনও খোলা আছে।

ঝালকাঠিতে সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। দূরপাল্লার কোনো নৌযান না চললেও ছোট ছোট খেয়ানৌকা চলতে দেখা গেছে।

বেলা ১টার দিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা। কোথাও কোথাও দেখা দেয় চিকচিক রোদ। সোমবার রাতে আসার পর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আবার বাড়ি ফিরতে শুরু করে লোকজন। কোথাও কোথাও জেলেরা মাছ ধরতে শুরু করেছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

কক্সবাজার

মাইকে ঝড়ের খবর শুনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন কুতুবদিয়া পাড়ার আবদুল জলিল, চরপাড়ার ছেনোয়ারা বেগম, সমিতি পাড়ার মো. হালিমসহ অনেকে।

হালিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঝড় চলে গেছে। আমরাও চলে যাচ্ছি।”

অবশ্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলছেন, এখনও তারা বাড়ি ফেরার অনুমতি দেননি। তার পরও কেউ কেউ চলে যাচ্ছে।

সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, ভয় ও আতঙ্ক থাকলেও কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৯টার পরই সূর্যর দেখা মেলে। বাতাসের তীব্রতাও ধীরে ধীরে কেটে যায়।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা সবাই নিজেদের ইচ্ছামাফিক বাড়িতে ফিরে গেছে।

আকাশ খুব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তবে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

ভোলা

মোরা চট্টগ্রামের দিকে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে অনেক জেলে মাছ ধরতে শুরু করেছে। ভোলা সদরে মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু জেলে ছোট ছোট নৌকায় নদীতে মাছ ধরতে নেমেছে।

ঝালকাঠি

জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক জানিয়েছেন, সোমবার রাতে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শ তিনেক লোক আশ্রয় নেয়। সকালে তারা ফিরে গেছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখনও খোলা আছে।

ঝালকাঠিতে সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। দূরপাল্লার কোনো নৌযান না চললেও ছোট ছোট খেয়ানৌকা চলতে দেখা গেছে।

মোরায় প্রাণ গেল তিনজনের

মোরায় আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে দুজন গাছ চাপায় এবং একজন আতঙ্কে মারা গেছেন।

গাছ চাপা পড়ে নিহত দুজন হলেন জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার পূর্ব ডোমখালীর রহমত উল্লাহ (৫০) এবং একই উপজেলার পূর্ব বড়হেউলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার সায়েরা খাতুন (৬০)। আর কক্সবাজার পৌরসভার নুনিয়াচটা আশ্রয়কেন্দ্রে আতঙ্কে মারা গেছেন মরিয়ম বেগম (৫৫)।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজি আবদুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।ঘূর্ণিঝড় মোরা আজ সকাল ছয়টার দিক থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে এটি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। দুপুর ১২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামছুদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা বৃষ্টি ঝরিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে।

শামছুদ্দীন আহমেদ আরও বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, সীতাকুণ্ডসহ বড় এলাকাজুড়ে ছিল এই ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবে এসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। ধীরে ধীরে এটি দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। এটি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়, তাই আরও বৃষ্টি ঝরিয়ে এটি দুর্বল হবে। ঘূর্ণিঝড়-পূর্ববর্তী আবহাওয়ায় ফিরে যেতে আরও ১০-১২ ঘণ্টা লাগবে বলে এই সময় উল্লেখ করেন তিনি।আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ (১৬ নম্বর) বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় মোরা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে সকাল ছয়টার দিকে কুতুবদিয়ার কাছ দিয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

প্রাইমারি স্কুল কম্পিউটার পায়, কিন্তু আমার বিচারকরা পায় না: প্রধান বিচারপতি

বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘আমরা করুণ অবস্থায় আছি। সরকার প্রাইমারি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটার দেয়। কিন্তু আমার বিচারকদের একটা কম্পিউটার দিতে পারেন না! বিচারকদের থাকার জায়গা নেই। এই সুপ্রিম কোর্টের একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং নেই। সুপ্রিম কোর্টের অনেক অফিসারের বসার রুমও নেই।’

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানিতে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। আজ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আজমালুল হোসেন কিউসি তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টান্তমূলক কাজের হাজারটা উদাহরণ আমি দিতে পারি।’

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ মামলা সারা পৃথিবীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলো। সারা দেশের মানুষ একটা ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করলো। এই সুপ্রিম কোর্টের ইন্টারফেয়ারেই ওই মামলার জট খুলে গেল। আমি যদি হাজারিবাগের ট্যানারির কথা বলি, তাহলে বলবো এই সুপ্রিম কোর্টের ইন্টারফেয়ারেই ট্যানারি স্থানন্তারিত হল। এই শহর দূষণের হাত থেকে রক্ষা পেল। গুলশান, বারিধারা লেক, শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা নদীও সুপ্রিম কোর্টের ইন্টারফেয়ারেই রক্ষা পেল। এই সুপ্রিম কোর্টই দেশের জনগণের স্বার্থে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় সব সময় পদক্ষেপ নিয়েছে।’

শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজেকে ‘পরাধীন’ উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এখানে যারা আছেন, সবাই স্বাধীন, আমি ছাড়া।’

এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আপনি পরাধীন না। প্রতিদিন কাগজ খুললে আপনার অনেক বক্তব্য পাওয়া যায়।’

জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি তো প্রেস কনফারেন্স করে কথা বলি না। আমি আমার প্রসিডিংসয়ের মধ্যে থেকে কথা বলি।post-tarek

চট্টগ্রামে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া////

ঘুর্ণিঝড় ‘মোরা’ কুতুবদিয়ার হয়ে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টায় মোরা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করা শুরু করে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অফিসার মাহমুদুল আলম জানান, মোরা কুতুবদিয়া থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূল ছুঁয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীতে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাত থেকে রক্ষা পেতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। এরমধ্যে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা, বাহারছড়া, ছনুয়া, খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার লোককে ১০২টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলার ২৫ হাজার, আনোয়ারা উপজেলার ১০ হাজার, সীতাকুণ্ড উপজেলার ৫ হাজার ও কর্ণফুলী উপজেলার সাড়ে ৬ হাজার লোক আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। মহানগরের ৮০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৫০০ পরিবারের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোরার কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। post-tarek

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সিকিউরিটি ট্যাগবিহীন খাবার

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে সিকিউরিটি ট্যাগবিহীন খাবার ফেরত দিয়েছে এসএসএফ। তবে নিরাপত্তা ট্যাগবিহীন খাবার কেন প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে পাঠানো হলো তা তদন্ত করে দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ঢাকা থেকে ভিয়েনাগামী প্রধানমন্ত্রীর ওই ফ্লাইটে অননুমোদিত (সিকিউরিটি ট্যাগ ব্যতীত) খাবার ওঠানোর পর এসএসএফ তা প্রত্যাখ্যান করে। বিমানের এমডি ক্যাপ্টেন এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেছেন, ‘তদন্ত না করে কিছুই বলা যাবে না। ওই ফ্লাইটে খাবার তালিকায় কী ছিল আর কী দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার কতটুকু দায়, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। এটা খুবই সেনসেটিভ। ’ বিমানসূত্র জানিয়েছে, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনের সফরে ভিয়েনা রওনা হন বিমানের বোয়িং ৭৭৭-এর একটি ফ্লাইটে। সঙ্গে রয়েছেন শতাধিক সফরসঙ্গী। ভিভিআইপি ফ্লাইটের খাবার ওঠানোর জন্য এসএসএফের একটি টিমের উপস্থিতিতে রবিবার রাত ৩টায় বিএফসিসিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পূর্বনিধারিত মেন্যু অনুযায়ী খাবার ক্রমতালিকা অনুসারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একটি কক্ষে সিলগালা করা হয়। গতকাল সকালে বিএফসিসির একটি কার্টে করে ওই খাবার পাঠানো হয় ফ্লাইটে। তখন এসএসএফ দেখতে পায় সিকিউরিটি ট্যাগ ছাড়া দুই ফ্লাস্ক স্যুপ প্রধানমন্ত্রীর জন্য দেওয়া হয়েছে। এসএসএফ স্যুপ গ্রহণ করেনি। বিএফসিসি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর খাবার মেন্যুতে চিকেন ও ভেজিটেবল স্যুপ ছিল। সেভাবে স্যুপভর্তি দুটি ফ্লাস্ক সেখানে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে নেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ফ্লাস্ক দুটি তালিকা অনুসারে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কার্টে না রেখে বাইরে ফেলে রাখেন। সকালে যখন খাবার ওঠানো হচ্ছিল, তখন ওই দুটি ফ্লাস্কে সিকিউরিটি ট্যাগ না লাগিয়ে তাড়াহুড়া করে দুটি পলিথিনে ভরে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইটে। আর তাতেই বিপত্তি ঘটে।

post: tarek

সুযোগ আসছে, নিতে পারবে কি বাংলাদেশ?

বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) ঢাকায় নিয়মিতভাবে ‘চায়না নাইট’ বা চীন-রজনীর আয়োজন করছে। ব্যাংকটির মূল দপ্তরে চালু করা হয়েছে বিশেষ চীন ডেস্ক। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনা গ্রাহকদের যোগাযোগ সহজ করতে চীনাভাষী রিলেশনশিপ ম্যানেজার আছেন সেখানে। ব্যাংকটি চীনা ভাষায় বইও প্রকাশ করেছে। নতুন যেসব চীনা কোম্পানি বাংলাদেশের বাজারে আসবে, বইটি হবে তাদের গাইড। চীনের সিল্ক রোড প্রকল্পের অধীনে বাংলাদেশে সম্ভাব্য চীনা বিনিয়োগ থেকে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়াই এসবের উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে এসসিবি জ্বালানী-বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে চীনা বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। টেলিকম খাতেও চীনের এক্সিম ব্যাংকের বিনিয়োগসঙ্গী ছিল এসসিবি। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে জড়িত হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশে কর্মরত আরো কয়েকটি ব্যাংক।

অথচ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা পরিকল্পনা কমিশনে নেই কোনো বিশেষ চীন ডেস্ক। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্প বিষয়ে পাওয়া যায়নি সামগ্রিক নীতিগত দলিল। অথচ চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। মূল-চীন বলে পরিচিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং হংকং ও তাইওয়ানই বাংলাদেশের সরাসরি বিনিয়োগকারী (এফডিআই) বড় দেশ। ২০১৫ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৯৩ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ও চীন ইতিমধ্যে আমব্রেলা চুক্তির অধীনে বিনিয়োগ শক্তিশালী এবং উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে অবকাঠামো, জ্বালানি ও শক্তি, যোগাযোগ ও পরিবহন এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠাসহ ২৫টি প্রকল্প। এসবে মোট বিনিয়োগ করা হবে ২৪ বিলিয়ন ডলার। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব গ্লোবাল ব্যাংকিং নাসের এজাজ বিজয় প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও মোংলার দুটি সমুদ্রবন্দরের আধুনিকীকরণ ও সামর্থ্য বাড়ানো এবং পায়রা ও সোনাদিয়ায় প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে। রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি বাংলাদেশের অনুকূলে বাণিজ্যিক ভারসাম্যও বাড়াবে। এসব বন্দর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সমুদ্র পরিবহনের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বর্ধনশীল সামুদ্রিক বাণিজ্যকে তাল মেলাতে সাহায্য করবে। চীনের জন্য বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ বাংলাদেশির সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। এই ইপিজেডে ১৫০ থেকে ২০০টি শিল্প ইউনিটে জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, ইলেকট্রনিক, কৃষিভিত্তিক, তথ্যপ্রযুক্তি, শক্তি ও টেক্সটাইল ও টেক্সটাইল যন্ত্রাংশ তৈরি করা হবে। এভাবে ভূরাজনৈতিক সুবিধা ব্যবহার করে আমরা ভারত মহাসাগরের আঞ্চলিক প্রবেশমুখের সুবিধা পাব।’

বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের ১৫.৯ শতাংশের অংশীদার চীন। মূলত রপ্তানি হয় পোশাক (৮৪ ভাগ), চামড়া, পাট (পাট ও পাটজাত পণ্য) ও হিমায়িত খাদ্য। বিআরআইয়ের মাধ্যমে চীন-মিয়ানমারের সঙ্গে কানেকটিভিটি বা সংযোগ নিবিড় হলে বাণিজ্যের আওতাও অনেক বাড়বে। বর্তমানে ৪ হাজার ৭০০ বাংলাদেশি পণ্য চীনের শুল্কসুবিধা পায়। চামড়াজাত পণ্য ও তামাকসহ আরও ১৭টি পণ্যও যোগ হবে এই তালিকায়। বিআরআই প্রধান প্রধান বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ আরো বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর যাবৎ চীনের কাছ থেকে পোশাকশিল্প পণ্যের জন্য এই সুবিধা বাংলাদেশ চেয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল বাণিজ্যঘাটতি কি তাতে কমবে? যেখানে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির হয় ৬৬৩.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, সেখানে আমদানি হয় ৯.৬৬২.৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলওয়ার হোসেন মনে করেন, ‘বাজার অর্থনীতিতে আমদানিও গুরুত্বপূর্ণ। চীন থেকে যা আমদানি করছি, তা আমাদের শিল্পায়নকে এগিয়ে দিচ্ছে। জাপান, কোরিয়া বা জার্মানি থেকে আমদানি করা তো আরও ব্যয়বহুল।’

চীনের অর্থনীতির রূপান্তর থেকে বাংলাদেশের সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চীনে হোয়াইট কলার শ্রমিক কমে যাচ্ছে, শ্রমঘন শিল্প থেকে তারা সরে আসছে, গার্মেন্টস কারখানা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে তাদের মধ্যবিত্তের আয়তন বড় হচ্ছে। চীনের ছেড়ে দেওয়া এসব শিল্প যদি বাংলাদেশে আনা যায় এবং চীনারা যদি এসবে বিনিয়োগ করে, তাহলে বহির্বিশ্বে এসব পণ্যের বাজারটাও আমরা পেতে পারি। তাদের নিজস্ব বাজারের জন্যও তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে পারে।’

আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

ঘূর্ণিঝড় মোরার সম্ভাব্য গতিপথ। সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি গত মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ছাড়াও উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৫ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকূল অতিক্রমের সময় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সোমবার সকাল নয়টায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার উপকূল থেকে ৪৪৫, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫৮০ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে কাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল থেকে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে মেঘলা ও থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করছে। রোববার দুপুরে ও রাতে বিভাগের কয়েকটি জেলায় সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও বরিশালে হয়নি।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ইমরুল কায়েস আজ সকালে প্রথম আলোকে জানান, নিম্নচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর কয়েক দিন ধরে কিছুটা উত্তাল ছিল। কিন্তু আজ সকালে তা আরও উত্তাল হওয়ায় সাগরে মাছ ধরা ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসছে।

সর্বশেষ গত ১৫ এপ্রিল সকালে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় এবং পরদিন তা ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’য় রূপ নেয়। পরে সেটি দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করে।

post:Azher