বিক্রি করে দেওয়া সেই মুসা ফিরলো দাদা-দাদির কোলে

পটুয়াখালীর দশমিনায় আইফোন কিনতে নিজের দেড় বছরের সন্তান মুসাকে এক লাখ টাকায় বিক্রির করে দেন মো. মারুফ নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় বিক্রি করা শিশুটিকে উদ্ধার করে দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। এসময় শিশুটিকে কাছে পেয়ে কান্নায় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দাদা মফিজ মুন্সী।

রবিবার (৩০ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনার ইউএনও মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে তার দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর করে। এসময় শিশুটির বাবা মারুফ ও শিশুটিকে কেনা ইমরানের কাছ থেকে মুচলেখা নেওয়া হয় এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

শিশুটির দাদা দাদা মফিজ মুন্সী বলেন, “আমার নাতিকে হারিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। দশমিনা থানা পুলিশ আমার নাতিকে উদ্ধার করে দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। আমি তাদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। আমি আমার নাতিকে লালন পালন করে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। এজন্য আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। ”

দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, “শিশুটিকে বিক্রির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই আমাদের পুলিশের টিম মাঠে নামে। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করেছি। তার দাদা-দাদি শিশুটিকে লালন পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমরা শিশুটিকে দাদা-দাদির কাছে হস্তান্তর করেছি। ”

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। থানা পুলিশ একদিনের মধ্যেই শিশুটিকে উদ্ধার করেছে। শিশুটিকে তার দাদা-দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যত চিন্তায় শিশুটির নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেওয়া হবে এবং আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।”

প্রায় চার বছর আগে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মারুফ মুন্সী ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আড়াই বছর পর এ দম্পত্তির ঘরে মুসার জন্ম হয়। এক মাস আগে দাম্পত্য কলহের জেরে বৃষ্টি তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফও কিছুদিন পর ঢাকায় চলে যান। তিনি শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফেরেন এবং শনিবার সকালে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে মুসাকে নিয়ে আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করে দেন।