ডিভোর্সটা পেয়েছি, এখন দেরিতে উঠলে কেউ বলবেনা বাবা-মা কিছু শেখায়নি

অবশেষে আমি ডিভোর্স পেয়েছি..
১. এখন আমার একটু দেরিতে ঘুম ভাঙ্গলে শুনতে হয় না আমার বাবা মা আমাকে কিছু শেখায় নি।
২. এখন আমার জ্বর আসলে কেউ বলে না রোগ ধরা মেয়েকে বৌ করে ঘরে এনেছি৷
৩. এখন আমি ভাত রান্না করতে গেলে কেউ এসে বলে না চাল কি আমার বাবার বাড়ি থেকে এনেছি কিনা।
৪. এখন আমি বারান্দায় একটু মন খারাপ করে দাঁড়ালে কেউ বলে না আমি বাইরের পুরুষ মানুষ দেখার জন্য দাঁড়িয়েছি৷
৫. এখন আমার মায়ের ফোন আসলেই কেউ বলে না এত বারবার মেয়ের খোঁজ নেওয়ার কি আছে?
৬. এখন আমি না খেয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করার পর কেউ বলে না এসব ঢং৷
৭. এখন আমি কাঁদতে গেলে কেউ বলে না আমি নাটক করি৷
৮. এখন আমি আমার পছন্দের একটা জামা কিনতে গেলে আমাকে ভাবতে হয় না এই রং টা আমার জন্য নিষিদ্ধ।
৯. এখন আমি চুলটা খুলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমাকে কেউ বলে না আমি বেহায়া৷
১০. এখন আমি রান্না করতে গিয়ে আমার হাত পুড়িয়ে ফেললে আমাকে শুনতে হয় না আমি কোন কাজই পারি না।
১১. এখন আমার মা আমাকে একটা জামা দিলে কেউই বলে না এত দেয়ার কি আছে?
১২. এখন আমাকে আমার আশেপাশের মানুষ কেমন আছি জিজ্ঞেস করলে আমাকে মিথ্যা বলতে হয় না যে ‘আমি ভাল আছি।’
১৩. এখন আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে আমার স্বামীর হাতের মার খেতে হয় না।
১৪. এখন আমি আমার অধিকার চাইলে গালি শুনতে হয় না।
১৫. এখন আমি ক্লান্ত থাকলেও আমার উপর কারো শরীরের খিদা মিটানোর অধিকার নাই।
১৬. এখন আমি চাকরি করতে গেলে আমাকে কেউ বলে না তার পরিবারের কোন মেয়ে বাইরে গিয়ে নিজের ট্যালেন্ট দেখায় না।
১৭. এখন কেউ আমাকে বলে না আমার সার্টিফিকেট গুলো শুধু মানুষকে বলার জন্য যে আমি শিক্ষিত।
১৮. এখন আমাকে শুনতে হয় না কারো ঘরের অশান্তির কারনটা আমি।
১৯. এখন আমাকে কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কেউ ঐখানের বৌ কে উদ্দেশ্য করে দেখায় না আমার বাপের বাড়ি থেকে আমাকে ভরিভরি গয়না দেয় নি।
২০. এখন আমার মা অসুস্থ হলেও আমাকে দুদিন যাবৎ কাউকে বুঝিয়ে কাকুতি মিনতি করে আমার মা কে দেখতে আসতে হয় না।
২১. এখন আমায় শুনতে হয় না ‘ঐ মেয়েটার সাথে বিয়ে করলে আমি সুখী হতাম, তোমার সাথে আমি সুখী নই।’
২২. এখন আমাকে রাতের পর রাত জেগে একটা ঘুমিয়ে থাকা মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবতে হয় না এই মানুষটাকেই কি ভালবেসেছিলাম যে আজ আমাকে মেরেছে?
২৩. এখন আমি শ্বাস নেওয়ার সময় কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
.
🔴 তবে আমাকে এখন শুনতে হয় অন্যকিছু।
এক. আমি ভাল না তাই আমি সংসার করতে পারিনি, দোষটা আমারই৷
দুই. আরো কিছুদিন নাকি আমার সহ্য করার দরকার ছিল।
তিন. আমার নাকি চুপ করে সহ্য করা উচিত ছিল।
চার. আমি নাকি “চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা” একটা মেয়ে।
পাঁচ. অনেক সিঙ্গেল ছেলে আমাকে দেখে বলে “ডিভোর্সী মা*ল, একটু পটালেই পাওয়া যাবে”৷
ছয়. আমার আত্মীয়স্বজন আমার বাবা মাকে বলে “তোমাদের আল্লাদে মেয়ে খারাপ হয়েছে”৷
সাত. বন্ধুবান্ধব বলে “মা তোর সাথে মিশতে মানা করছে, তুই ডিভোর্সী”৷
🔵 হাহাহাহা হা হা হা হা৷ আমার প্রশ্নঃ………
🔵 কোথায় ছিলেন আপনারা যখন আমি রাত জেগে কাঁদতাম?
🔵 কোথায় ছিল আমাকে নিয়ে এত সমালোচনা যখন আমার চোখের নিচে এত কালি পড়েছিল যে চোখ দুটোই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল?
🔵 কোথায় ছিলেন আপনারা যখন আমার স্বামী আমাকে অপমানজনক ভাষায় কথা বলত?
🔵 কোথায় ছিল আপনাদের সম্মান যখন আমার বাবা-মাকে প্রতি মুহূর্তে অপমান করা হত?
🔵 কোথায় ছিল সবার এই বিবেক যখন আমি শরীরের ব্যথায় কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম?
আপনারা কিছু হলেই কেন মেয়েটার দোষ বের করেন? সম্পূর্ণ ঘটনাটা জেনেই কি সমালোচনা করছেন?
আমি বেঁচে আছি। ভাল না থাকি, অন্তত খারাপ নেই। কাঁদছি না।
আপনারা বলেন—আমি সংসার ছেড়ে অন্যায় করেছি।
কিন্তু যেগুলো আমার সাথে হচ্ছিল, সেগুলো কি ন্যায় ছিল?
কোনটা ভালো হতো বলুন তো?
আমি যদি চুপচাপ সব সহ্য করতে করতে একসময় নিজেকেই হারিয়ে ফেলতাম?
তখন হয়তো সবাই বলতেন—“মেয়েটা অনেক সহ্য করেছিল।”
আমি অন্তত বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এটাই কি অপরাধ?
🔴 দয়া করে একটা মেয়ের সম্পর্কে আঙুল তোলার আগে অন্তত সম্পূর্ণ ঘটনাটা জানুন। তারপর বিচার করুন।