উচ্চ বেতনের কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে এক যুবক। তবে এই পরিবর্তন কোনো ব্যর্থতার গল্প নয়; বরং এটি নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার, মানসিক সংগ্রাম কাটিয়ে ওঠার এবং জীবনের সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পাওয়ার গল্প।
রাকেশ (ছদ্মনাম) একসময় অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন। একটি নামকরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ দিয়ে তিনি পেশাজীবন শুরু করেন। ভালো বেতন, আরামদায়ক অফিস এই সবই ছিল তার জীবনে। কিন্তু একটা সময় পর থেকে তিনি বিভিন্ন বড় ব্যাংক ও কম্পিউটার কোম্পানিতে কাজ করে নিজের ক্যারিয়ারকে আরও শক্তিশালী করেন। সমস্যাটা তৈরি হয় মানসিক। আর্থিক স্বচ্ছলতার মাঝেও তিনি ভেতরে ভেতরে শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে অসুখী ও বিচ্ছিন্ন মনে করতে থাকেন।
রাকেশ বলেন, “শুরুর দিকে সবকিছু ঠিকঠাক মনে হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, আমি শুধু অন্যদের খুশি করার চেষ্টা করছি। নিজের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। জীবনে সব আরাম ছিল, কিন্তু মনের শান্তি ছিল না।”
কর্পোরেট জীবনের চাপ ও মানসিক ক্লান্তি তাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। তার মনে হতে থাকে, এখানে মানুষকে শুধুই কাজের ফলাফলের জন্য ব্যবহার করা হয়। এতে তিনি নিজের কাজের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।তার সমস্যাগুলো শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পারিবারিক জীবনের টানাপোড়েন—বিশেষ করে বাবার সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা ও দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো—তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেন এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধও সেবন করেন।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ঘন্টার পর ঘন্টা একই বিষয় নিয়ে ভাবতাম। প্রায় বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম।”
এরপর নিজের জীবনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি কাজ শুরু করেন। মানুষের আচরণ ও নিজের অভিজ্ঞতাগুলো বুঝতে তিনি মনোবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন। পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার দিকেও মনোযোগ দেন।ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মাধ্যমে তিনি ১৫ কেজি ওজন কমান। মার্শাল আর্ট—বিশেষ করে মুয়াই থাই ও জু-জিৎসু—প্রশিক্ষণ নেন, যা তাকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সাহায্য করে। তার কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি একটি রাজ্য-স্তরের প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদকও অর্জন করেন।
জীবনের এই পর্যায়ে এসে রাকেশ কোনো কাজকে ছোট করে দেখেননি। তিনি ফুড ডেলিভারি এজেন্ট, বাইক ট্যাক্সি চালক এবং এমনকি জিমে ফ্লোর পরিষ্কার করার কাজও করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার অনুভূতি নতুন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে রাকেশ বেঙ্গালুরুতে একটি ইলেকট্রিক অটোরিকশা চালান। কাজের পাশাপাশি তিনি নাচ ও ছবি আঁকার মতো নিজের ভালো লাগার কাজগুলোতেও সময় দেন।
সূত্র: এনডিটিভি
Priyo Bangla 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Priyo Bangla 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.