মন্ত্রিসভায় ডাক পাচ্ছেন যারা, বের হচ্ছে সম্ভাব্য নাম

দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনের দিকে বিএনপি। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বগ্রহণ, মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হলো এই গেজেটের মাধ্যমে। দেশের নবম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান। রোববার সংসদ সদস্যদের শপথের পরই মন্ত্রিত্ব বন্টন। সেই মন্ত্রিত্বের ডাক পেতে পারেন বিএনপির নবনির্বাচিত উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের কয়েকজন। বিশেষ করে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান এবং দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে এমন সংসদ সদস্যদের ডাকবেন তারেক রহমান।

বিএনপির একটি সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। দলের জন্য তার দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল। বিএনপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তিনি দলটির হাল ধরেছিলেন দেশে। আইনমন্ত্রীর জন্য ডাক পাবেন ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। ‌তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী।

আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর জন্য ড. রেজা কিবরিয়া। যিনি হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ও বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। পররাষ্ট্রে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন আহমেদ। এর আগে তিনি বিএনপি’র আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্কে উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবার গুরুত্ব পাচ্ছে। এই মন্ত্রণালয় থেকে বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুত আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হতে পারে।

এই মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে পারেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিত। নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজসেবা তথা পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী নিয়ে দেশে-বিদেশে কাজের জন্য নন্দিত তিনি। ড. মুহিত লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন থেকে পিএইচডি এবং ইউসিএল থেকে এমএসসি করা একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষক। একই সঙ্গে মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাজার হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নায়ক। ৪টি দেশে তিনি সমাজসেবামূলক কাজ এবং বাংলাদেশে ১১টি চক্ষু হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২৮টি দেশের ৮০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের (GLM-CPR) নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর রয়েছে বিরল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা।

তবে অভিজ্ঞদের মধ্যে যাদের নাম জানা যাচ্ছে তারা হলেন স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাসকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সালাহউদ্দিন আহমদকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এছাড়া, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন ড মাহাদী আমিন ও জাইমা রহমান- এমন আলোচনাও রয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভায় নয়া মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট), স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নাম বিবেচনায় আছে। মন্ত্রী পদে চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন , ব্যারিস্টার অসীম (টেকনোক্র্যাট) , আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নাম আলোচনায় রয়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা আগেই দিয়েছিল বিএনপি। এর বাস্তবায়ন দেখা দেখা যাবে নতুন মন্ত্রিসভায়।

তার মধ্যে ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, ড. রেজা কিবরিয়া ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম আলোচনায় আছে।