ভিক্ষা করতে শরম লাগে, তাই ওজন মাপার মেশিন নিয়ে রাস্তায় বসেছি

ট্ট আয়েশাকে নিয়ে সারারাত মসজিদের পাশে জেগে থাকা এক মায়ের করুন আর্তনাদ! যেখানে মানুষ মানুষকে চেনে না, সেখানে একাকী এক মা তাঁর ৬ বছরের ছোট্ট মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন।

থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার টাকা নেই, তবুও কারো কাছে হাত পাতেননি। সম্বল বলতে কেবল একটি ওজন মাপার মেশিন, যা দিয়ে সারা দিনে ১০ টাকাও আয় হয়নি।

ঢাকায় আসার প্রথম রাতটি কেটেছে একটি মসজিদের পাশে রাস্তার ধারে। মেয়েকে কেউ চুরি করে নিয়ে যাবে—এই ভয়ে মা সারাটি রাত এক মুহূর্তের জন্যও চোখ বন্ধ করেননি।

সেহরিতে কিছু না খেয়ে শুধু পানি পান করে রোজা রেখেছেন এই মা। সারাদিন ইফতারের জন্য একটি টাকাও জোগাড় করতে পারেননি কারণ কেউ ওজন মাপতে আসেনি।

অভাবের তাড়নায় পিষ্ট হয়েও তিনি ভিক্ষা করতে চান না। এক ব্যক্তির দেওয়া খাবারের টাকা জমিয়ে তিনি ওজন মাপার মেশিন কিনেছেন যেন সম্মানের সাথে দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে পারেন।

রাস্তায় এক হৃদয়বান আপা তাঁদের দুই দিনের জন্য আশ্রয় দিলেও আজ তাঁদের চলে যেতে হবে। এখন কোথায় যাবেন এই মা আর মেয়ে?

এই পবিত্র রমজান মাসে আমরা কি পারি না আয়েশা আর তার মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে? আমাদের যাকাত বা সাদকার সামান্য অংশ কি পারে না এই অসহায় পরিবারটির একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে?

আয়েশার মায়ের সেই ভয়— “আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হবে না তো?” এই কথাটি কি আমাদের সমাজের নিরাপত্তার অভাবকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় না? আসুন, আমরা সবাই মিলে এই মা-মেয়ের পাশে দাঁড়াই।

​পোস্টটি শেয়ার করুন যেন সমাজের বিত্তবান এবং হৃদয়বান মানুষরা আয়েশার সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন। আপনার দোয়া ও ভালোবাসা কমেন্টে জানান।