সত্যজিৎ অস্কার পেতে চলেছেন খবরটি ১৯৯২ এর প্রথমদিকে সবাই কম বেশি জেনেই গিয়েছিলেন।
চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ফেলেন অস্কার কর্তৃপক্ষ কলকাতায় এসে সত্যজিৎ রায়কে পুরস্কার দিয়ে যান।
গর্বের দিনটা নিশ্চয়ই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, ভারতবর্ষকে গর্বিত করেছিলেন প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়। শতাব্দীর সেরা চলচ্চিত্রকার যিনি মাতৃভূমি ভারতকে অস্কার এনে দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের ৩০ মার্চ টিভির পর্দায় দীর্ঘ রোগভোগে ক্লান্ত সত্যজিৎ রায়কে অস্কার পুরস্কারের স্মারক হাতে নিয়ে আধশোয়া অবস্থায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করতে দেখে আবেগে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন সবাই। ওই দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্কার দেওয়া হয়।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
প্রাথমিক ভাবে কথা ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে মানিকবাবু আনুষ্ঠানিকভাবে অস্কার নেবেন। অবশ্য সেই পরিকল্পনা বাতিল হয় কারণ তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক সেই কারণে চিরাচরিত প্রথা ভেঙে অস্কার কর্তৃপক্ষ কলকাতায় এসে সত্যজিৎ রায়কে পুরস্কার দিয়ে যান। অস্কার কমিটির প্রতিনিধি প্রযোজক আল শেয়ার্জ নিজে কলকাতায় আসেন।
ইন্টারেস্টিং বিষয় ভারত সরকার সেই সময় সত্যজিৎ রায়কে ভারতরত্ন পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। মানিকবাবু তখন বেলভিউ নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন। শোনা যায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে শয্যাশায়ী থাকা সত্ত্বেও তিনি নাকি সহধর্মিণী বিজয়া রায়কে সেইসময় বলেছিলেন এবার দেখছি পুরস্কার দেওয়ার ধুম পড়ে গেছে। বলা বাহুল্য ফ্রান্সের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘লিজিয়ন অফ অনার ‘ লাভের পরেও স্বদেশের ‘ভারতরত্ন’ পেতে সত্যজিৎ রায়কে অস্কার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় এই নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়।
১৬ মার্চ ১৯৯২ বেলভিউ নার্সিং হোমের সত্যজিৎ লাভ করেন অস্কার সম্মানের স্মারক। সেদিন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন সত্যজিৎ জায়া বিজয়া রায়, আল শেয়ার্জ সহ আর কয়েকজন।
কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে কিছু না বলার ধৃষ্টতা দেখিয়ে বলা যায় নিজের প্রথম ছবি’ পথের পাঁচালী ‘র মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রপরিচালকের সদর্প আগমন।
পরে ‘অপরাজিত’, ‘পরশপাথর’, ‘জলসাঘর’, ‘অপুর সংসার’, ‘দেবী’, ‘তিনকন্যা’, কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘আগন্তুক’, ‘মহানগর’, ‘চারুলতা’ ছবিগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের গোত্রান্তর ঘটিয়ে দেন। চলচ্চিত্র বোদ্ধা থেকে সিনেমা প্রিয় মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। ফেলুদা, তোপসে, জটায়ু, প্রফেসর শঙ্কু প্রভৃতি চরিত্র নির্মাণ করে সত্যজিৎ বাংলা কিশোর সাহিত্যকে এক ভিন্নতর মাত্রা দেন- আজও তারা বেস্ট সেলার।
শুধু একটা কথা তাঁর সম্পর্কে সাহস করে বলা যায় বোধহয়! সত্যজিৎ রায় তুলসী চক্রবর্তী ও রবি ঘোষকে আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা মনে করতেন এবং এই দু’জনকেই যোগ্য চরিত্র দিয়ে গেছেন সত্যজিৎ। তুলসী চক্রবর্তীকে প্রধান চরিত্রে রেখে ‘পরশপাথর’ নির্মাণ করেন আর রবি ঘোষ ‘বাঘা বাইন’ হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত। প্রতিভাকে সঠিক ভাবে চিনতে পারেন, ব্যবহার করতে পারেন আরেক প্রতিভাই। শেষবেলায় ‘আগন্তুক’-এ নতুন রূপে উৎপল দত্তকে উপস্থিত করা তো প্রতিভাকে প্রতিভার দেওয়া উপহারই।
মানিকবাবুর অস্কার প্রাপ্তি গর্বিত করেছে ভারতবর্ষের আবালবৃদ্ধবনিতা কে। আমরাও সেই গর্বে গর্বিত,আমরাও বলতে পারি ভারতের একজন সত্যজিৎ রায় ছিলেন ।
পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, অদ্বিতীয় সত্যজিৎ,মঞ্জিল সেন, সম্পাদনা ও টীকা ,স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়
Images courtesy- YouTube
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে
Priyo Bangla 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Priyo Bangla 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.