১৬ বছরের নিচের বাচ্চাদের স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হোক

আজকের জীবনে মোবাইল ফোন যেন আর আলাদা কোনো জিনিস নয়, আমাদের শ্বাস নেওয়ার মতোই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে রাতের শেষ মুহূর্ত—সবটাই স্ক্রিনের আলোয় ঘেরা। কিন্তু এই সহজ অভ্যাসটাই কি সব বয়সের জন্য সমান নিরাপদ? প্রশ্নটা আজ অনেক বাবা-মায়ের মনেই ঘুরছে।

সম্প্রতি অভিনেতা এমন এক কথা বলেছেন, যা শুনে অনেকেই থমকে গেছেন। তাঁর মত, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত। শুনতে কঠিন লাগলেও, কথাটার ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর এক উদ্বেগ।
আজকাল খুব ছোট বয়সেই বাচ্চারা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডুবে যাচ্ছে। মাঠে খেলাধুলো, পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এসব ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে। তার জায়গা নিচ্ছে লাইক, রিল আর ফলোয়ারের হিসেব।

বাইরের দুনিয়া দেখার আগেই তারা দেখতে পাচ্ছে সাজানো জীবন, নিখুঁত মুখ, অবাস্তব সুখের গল্প। অজান্তেই শুরু হয় তুলনা—“ওর এত কিছু আছে, আমার কেন নেই?” এই অদৃশ্য চাপ ধীরে ধীরে তাদের ভেতরটা নরম করে দেয়।

তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সাইবার বুলিং, কটূ মন্তব্য, ভুল তথ্য আর অনুপযুক্ত কনটেন্ট। বড়দের মনও যেখানে অনেক সময় সামলাতে পারে না, সেখানে ছোটদের কোমল মন কীভাবে সবটা বুঝে নেবে? তারা চুপ করে যায়, ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে—আর সেটা অনেক সময় ধরা পড়েই না।

১৬ বছরের আগে সময়টা আসলে নিজেকে জানার সময়। ভুল করে শেখার, প্রশ্ন করার, নিজের মতো করে পৃথিবীকে চিনে নেওয়ার সময়। এই বয়সে তাড়াহুড়ো করে বড় হয়ে যাওয়ার চাপ তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে থামিয়ে দেয়।

ডিজিটাল দুনিয়ার দরজা বন্ধ করা মানে তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া নয়, বরং একটু সময় দেওয়া—নিজেকে গড়ে তোলার সময়। যেমন জীবনের প্রতিটি জিনিসের একটা সঠিক সময় থাকে, তেমনই প্রযুক্তি ব্যবহারেরও একটা পরিণত বয়স থাকা উচিত।

এই দায়িত্ব শুধু সরকার বা পরিচিত মানুষের নয়। বাড়ির বাবা-মা, দাদা, বৌদি, শিক্ষক—সবাই মিলে যদি সচেতন না হই, তাহলে আগামী প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অনেক সময় আমরা ভাবি, “সবাই করছে, আমার সন্তান পিছিয়ে থাকবে কেন?” কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, সবকিছুতে আগে যাওয়াই উন্নতি নয়। কখনো কখনো ধীরে চলাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

শিশুদের ভবিষ্যৎ শুধু ভালো স্কুল বা ভালো রেজাল্টে তৈরি হয় না। তাদের মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস আর বাস্তব জীবনের সংযোগই তাদের সত্যিকারের বড় করে তোলে। আর সেই জায়গাটাই যেন আমরা অজান্তেই দুর্বল করে দিচ্ছি।

সময় এসেছে একটু থামার। একটু ভেবে দেখার—আমরা কি সত্যিই তাদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাচ্ছি, নাকি অজান্তেই তাদের শৈশবটুকু দ্রুত কেড়ে নিচ্ছি?