হস্তমৈথুন অথবা সহবাসের পর গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা সহীহ হবে

রমজান মাসে রোজা রাখা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়; এটি আত্মসংযম, পবিত্রতা ও তাকওয়ার এক অনুশীলন। এ সময় অনেকের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—হস্তমৈথুন বা সহবাসের পর যদি ফরজ গোসল (গোসল-এ-জনাবাত) না করে সেহরি খাওয়া হয়, তাহলে কি সেই দিনের রোজা সহীহ হবে?

শরিয়তের মূলনীতি: রোজা ও গোসল আলাদা বিধান

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, রোজা সহীহ হওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে পবিত্র (পাক) অবস্থায় থাকা শর্ত নয়। অর্থাৎ কেউ যদি জানাবত অবস্থায় (সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে) ফজরের আগে গোসল না-ও করে, তবু তার রোজা শুদ্ধ হবে—যদি সে ফজরের আগে থেকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকে।

এ বিষয়ে একাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের প্রমাণ

Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim-এ উম্মুল মুমিনিন Aisha (রা.) এবং Umm Salama (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

“রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনো কখনো স্ত্রীদের সাথে সহবাসের কারণে জানাবত অবস্থায় সকাল করতেন। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১০৯)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—ফজরের সময় জানাবত অবস্থায় থাকলেও রোজা সহীহ হয়, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গের কোনো কাজ না করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: কখন রোজা ভেঙে যায়?

১. রাতের বেলা সহবাস করে ফজরের আগে গোসল না করলে—রোজা সহীহ।
২. ফজরের পর ইচ্ছাকৃত সহবাস করলে—রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারা প্রযোজ্য হবে।
৩. হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে—অধিকাংশ ফকিহের মতে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে (কাফফারা নয়)।

আলেমদের ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত তাফসিরবিদ Ibn Kathir এবং ফিকহবিদ Ibn Qudamah-সহ বহু আলেম ব্যাখ্যা করেছেন—রোজার সহীহ হওয়ার জন্য নিয়ত ও সংযমই মুখ্য বিষয়। জানাবত অবস্থা নামাজের জন্য প্রতিবন্ধক, রোজার জন্য নয়। তবে ফজরের নামাজ আদায়ের আগে দ্রুত গোসল করা ফরজ।

বাস্তব করণীয়

  • যদি কেউ সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে জানাবত অবস্থায় ফজর পায়, তবে সে সেহরি খেতে পারবে।
  • ফজরের নামাজের আগে বা যত দ্রুত সম্ভব গোসল সম্পন্ন করতে হবে।
  • ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গের মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

হস্তমৈথুন বা সহবাসের পর গোসল না করে সেহরি খেলে রোজা সহীহ হবে—যদি তা ফজরের আগে হয়ে থাকে এবং ফজরের পর কোনো রোজা ভঙ্গকারী কাজ না করা হয়। হাদিস দ্বারা এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। তবে পবিত্রতা বজায় রাখা ও সময়মতো ফরজ গোসল আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

ইসলাম সহজ ও বাস্তবসম্মত বিধান দিয়েছে। সঠিক জ্ঞান থাকলে অযথা দুশ্চিন্তার অবকাশ থাকে না।