কোন কারণে একটা রোজা মিস হলে কয়টা রোজা রাখতে হবে

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো রোজা। পবিত্র রমজান মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলমানদের ওপর রোজা ফরজ। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক সময় একটি বা একাধিক রোজা মিস হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কতগুলো রোজা রাখতে হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকে। নিচে বিষয়টি শরিয়তের আলোকে সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

অসুস্থতা বা শরিয়তসম্মত কারণে রোজা ভাঙলে

যদি কেউ অসুস্থতা, ভ্রমণ, গর্ভাবস্থা, সন্তানকে দুধ পান করানো বা অন্য কোনো বৈধ (শরিয়তসম্মত) কারণে রোজা না রাখতে পারেন, তাহলে তাকে পরে সেই রোজাগুলো কাজা করতে হবে।

অর্থাৎ,

  • একটি রোজা মিস হলে একটি রোজাই কাজা করতে হবে।
  • দুইটি মিস হলে দুইটি কাজা করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
“তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে তা পূরণ করে নেবে।” — কুরআনুল কারিম, সূরা আল-বাকারা ২:১৮৪

এক্ষেত্রে অতিরিক্ত রোজা রাখার প্রয়োজন নেই, শুধু মিস হওয়া রোজাগুলো পূরণ করলেই যথেষ্ট।

ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে কী হবে?

যদি কেউ রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলেন (যেমন—খাওয়া-দাওয়া করা), তাহলে বিষয়টি গুরুতর গুনাহ। এ অবস্থায় করণীয় হলো:

  1. সেই দিনের একটি রোজা কাজা করা।
  2. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা।

তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যেমন—ইচ্ছাকৃতভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে “কাফফারা” আদায় করতে হয়। কাফফারা হলো:

  • ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখা, অথবা
  • তা সম্ভব না হলে ৬০ জন গরিবকে খাবার খাওয়ানো।

এই বিধান সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, যা পাওয়া যায় সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিম-এ।

অজান্তে রোজা ভেঙে গেলে

যদি কেউ ভুলে খেয়ে ফেলেন বা পান করে ফেলেন, তাহলে রোজা ভাঙে না। এ ক্ষেত্রে রোজা চালিয়ে যেতে হবে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাকে আহার করিয়েছেন। তাই এতে কাজা বা কাফফারা কোনোটিই নেই।

রোজা কাজা করার সময়সীমা

রমজানের মিস হওয়া রোজাগুলো পরবর্তী রমজান আসার আগেই কাজা করে নেওয়া উত্তম। তবে যথার্থ কারণ ছাড়া দেরি করা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব কাজা আদায় করা ভালো।

উপসংহার

একটি রোজা মিস হলে সাধারণভাবে একটি রোজাই কাজা করতে হয়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ বিধান রয়েছে। তাই রোজা সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখা জরুরি। কোনো জটিল বা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি হলে আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করাই উত্তম।

রোজা শুধু না খেয়ে থাকা নয়, বরং তাকওয়া অর্জনের একটি প্রশিক্ষণ। তাই সচেতনভাবে রোজা আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।