১৫ বছরের সংসারজীবন নরকেই কাটিয়ে দিলাম

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ২০১১ সালে অস্ট্রিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী পিটার হাগের সঙ্গে প্রেমের টানে ঘর বেঁধেছিলেন। কিন্তু সেই দাম্পত্যজীবন অভিনেত্রীর কাছে হয়ে ওঠে এক বিভীষিকাময় দুর্বিষহ। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের সংসারজীবনে নরকেই কাটিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন অভিনেত্রী।

লাইমলাইটের অন্তরালে থাকা একসময়ের ‘বোল্ড’ বলি অভিনেত্রীর এ পোস্ট নিয়ে রীতিমতো নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বর্তমানে তার তিন সন্তান অস্ট্রিয়ায় রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার এবং খোরপোশ বাবদ পিটারের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দাবি করেছেন সেলিনা জেটলি।

‘যখন কেউ নিজের দেশ, পরিবার ও সংস্কৃতি ছেড়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটায়, তখন সে ধীরে ধীরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু একসময় সে বুঝতে পারে, যে মাটির সঙ্গে তার শৈশবের স্মৃতি জড়িত নয়, সেখানে সে কখনোই পুরোপুরি ‘নিজের’ হতে পারে না’ বলে জানান সেলিনা জেটলি।

কারণ যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর আচরণও করেছিলেন পিটার হাগ। ২০১২ সালের দিকে দিল্লিতে ধর্ষণের ঘটনার উদাহরণ টেনে তাকে ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানান অভিনেত্রী।

সেলিনা জেটলি বলেন, ২০১৪-১৫ সাল থেকে আমাকে ওর অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করত। এতে নাকি অফিসে ওর প্রোমোশন হবে। তিনি বলেন, রাত হলেই আমাকে ওপরের ঘরে পাঠিয়ে চলত অকথ্য যৌন অত্যাচার। আমাকে ‘যৌন পুতুল’ হিসেবে ব্যবহার করত পিটার হাগ। এমনকি নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলও করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন সেলিনা জেটলি।

সম্প্রতি স্বামী ব্যবসায়ী পিটার হাগের বিরুদ্ধে মামলা করে নিজের জীবনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন অভিনেত্রী। ডিভোর্সে সেলিনা উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই পিটার হাগ তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন। তার পরিবার থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার গহনা ও উপহার দেওয়ার পরও শান্ত হননি তিনি।

একজন সফল ও শিক্ষিত নারী হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে তিনি অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সেলিনা জেটলি বলেন, ইতালিতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে যখন ঋতুস্রাবের তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলাম, সেই সময় পিটারকে বলেছিলাম— ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে। ও রেগে গিয়ে চেঁচিয়ে আমার দিকে গ্লাস ছুড়ে মারে।