কোন বেওয়ারিশ অসম্মানে বিদায় নেবে না – ভাইয়ের শেষকৃত্যের পর পূজা শর্মা

দিল্লির শ্মশানে তখন ধীরে ধীরে জ্বলছিল ভাইয়ের চিতা। আগুনের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর কান্না চেপে দাঁড়িয়ে ছিলেন বোন পূজা। নিজের দাদাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে সেদিন তিনি এমন এক দৃশ্য দেখেছিলেন, যা তার জীবনের পথটাই বদলে দিয়েছিল।

তিনি দেখেছিলেন—এই শহরে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের শেষ যাত্রায় পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। অজ্ঞাতপরিচয় সেই মানুষগুলোকে বিদায় জানানো হয় নিঃশব্দে, অনেকটা একাকীত্ব নিয়েই। সেই মুহূর্তে আগুনের সামনে দাঁড়িয়েই পূজা শর্মা মনে মনে একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তিনি ঠিক করেছিলেন, যার পাশে কেউ নেই, তার পাশে তিনি থাকবেন।

২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজও থামেনি। দিল্লির বুকে এই তরুণী আজ হাজারো অচেনা মানুষের শেষ যাত্রার নীরব সঙ্গী। সমাজ কী বলল, কে কী ভাবল—সেসবের দিকে না তাকিয়ে তিনি এগিয়ে এসেছেন মানবতার টানে।

গত কয়েক বছরে ৬,০০০-এরও বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মানুষের শেষকৃত্যে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়—কিছুই তার কাছে বড় হয়ে ওঠেনি। তার কাছে বড় হয়েছে শুধু একটি বিষয়—একজন মানুষের শেষ বিদায় যেন সম্মানের সঙ্গে হয়।

কাঠ সাজানো থেকে শুরু করে শেষ বিদায়ের সব আয়োজন—সবকিছুই তিনি করেন গভীর মমতা নিয়ে, যেন তারা তারই আপন কেউ।

কোনো প্রচারের আলো নয়, কোনো স্বার্থ নয়—শুধু অন্তরের তাগিদ থেকেই তিনি এই কাজ করে চলেছেন। আজকের ব্যস্ত ও স্বার্থের পৃথিবীতেও যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এখনও বেঁচে আছে, পূজা শর্মা তারই এক অনন্য উদাহরণ।

তিনি যেন নীরবে মনে করিয়ে দেন—রক্তের সম্পর্কই সব নয়, মানুষের প্রতি মানুষের টানই সবচেয়ে বড় সম্পর্ক।

এমন মানুষদের জন্যই হয়তো পৃথিবীটা এখনও সুন্দর লাগে।

তার এই সাহস, এই মানবিকতার সামনে সত্যিই মাথা নত হয়ে আসে। স্যালুট জানাই দিল্লির এই সাহসী মেয়েকে। আপনার এই পথচলা আমাদের শেখায়—মানুষ হয়ে ওঠাই জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।