সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। তবে আজকে তার যে সফলতা, এর পেছনে রয়েছে মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম, ত্যাগ আর বিশ্বাসের গল্প। মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের অজানা সেই অধ্যায়গুলো তুলে ধরতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।
তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন পূরণে আপসহীন ছিলেন তিনি। এমনকি, পরিবারের ভেতরেও লড়াই করতে হয়েছে মাকে।”
ফারিণ যখন নাচের স্কুলে ভর্তি হন, তখনো বাবাকে রাজি করাতে একপ্রকার যুদ্ধ করতে হয়েছিল তার মাকে। এ বিষয়ে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “আমার মা আমার বাবার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাকে নাচের স্কুলে ভর্তি করেছেন। সাধারণত, মানুষ ইমোশনকে দুর্বলতা মনে করে। কিন্তু আমার মা তার আবেগ দিয়েই আমাকে শক্তি দিয়েছেন।”
নিজেকে ভীষণ আবেগপ্রবণ মানুষ উল্লেখ করে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “আমি সাধারণত ইমোশন দেখাতে চাই না। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, এই বয়সে আমার যত অর্জন, তা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। অথচ আমার মা ঠিকই বিশ্বাস করেছিলেন।”
অভিনয়, গান শেখা কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চা, সবকিছুর পেছনেই মায়ের নিরলস পরিশ্রম ছিল। পরীক্ষার সময়ও যখন অভিনয় বা অন্য কাজের সুযোগ আসত, তখন মা-ই বাবার সঙ্গে তর্ক করে তাসনিয়া ফারিণকে উৎসাহ দিতেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
মায়ের পরিশ্রমের খানিকটা ব্যাখ্যা করে তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “মা বিশ্বাস করতেন, তার মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কাজও ভালোভাবে করতে পারবে। স্কুল শেষে তিনি আমার জন্য অপেক্ষা করতেন, আমাকে নিয়ে নজরুল একাডেমিতে গানের ক্লাসে যেতেন। রিহার্সেল চললে রাত ১০টা পর্যন্ত আমি স্কুল ড্রেস পরে থাকতাম, আর মা বাসা থেকে খাবার এনে দিতেন।”
ক্যারিয়ারের শুরুতেও মায়ের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তাসনিয়া ফারিণের ভাষায়, “প্রথম যখন কাজের অফার আসে, মা-ই আমাকে সাহস দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম আমার ভেতরের সৃজনশীলতাকে চিনতে পেরেছিলেন।”
মাকে নিজের জীবনের ‘বটগাছ’ উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “তিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন, এখনো আছেন। আমি চাই, আমার মায়ের মৃত্যুর আগে যেন আমার মৃত্যু হয়। কারণ, এটা আমি সহ্য করতে পারব না।”
Priyo Bangla 24 – Most Popular Bangla News The Fastest Growing Bangla News Portal Titled Priyo Bangla 24 Offers To Know Latest National And Local Stories.