চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন কার্তিক আরিয়ান

ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আয়োজন বসেছে গুজরাটে। এর আগে বিজয়ীদের নাম চলতি বছরের ১৮ জুলাই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেদিন তিনটি জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানরা পুরস্কারপ্রাপকদের নাম প্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরও একটি বিশেষত্ব ছিল। এই প্রথম একতানগর কেভাডিয়ায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এতদিন দিল্লিতেই এ অনুষ্ঠান হতো। এখন থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি হবে। এবার শুরু হলো গুজরাট থেকে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। পুরস্কার গ্রহণ করে আবেগপ্রুত হয়ে পড়েন এ অভিনেতা। ছোট শহর গোয়ালিয়র থেকে উঠে আসা সেই সাধারণ একটি ছেলে যে একদিন অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, সে স্বপ্ন আজ সত্যি হলো।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। সেখানে তিনি জানিয়েছেন তার মনের কথা— এই অর্জন দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ানকে উৎসর্গ করেছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ‘রজত কমল’ ও সম্মাননা সনদ গ্রহণ করেন কার্তিক আরিয়ান। কাস্টিং ডিরেক্টর ও খ্যাতিমান নির্মাতা কবির খানের পরিচালিত ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মুরলিকান্ত পেটকরের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পুরস্কার গ্রহণের সময় মঞ্চে নিজের নাম ডাকার মুহূর্তটির অনুভূতি জানিয়ে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে কার্তিক আরিয়ান লিখেছেন, ‘গোয়ালিয়রের সেই সাধারণ ছেলেটির দিকে আজ পেছন ফিরে হাসিমুখে তাকাচ্ছি, যে এমন এক পরিবেশ থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, যেখানে মানুষ এমন স্বপ্নে কেবল হেসে উড়িয়ে দিত। অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটির সাক্ষী হলাম এবং জীবনকে উপভোগ করলাম…। আনন্দে আর উত্তেজনায় এখনো অনুভূতিহীন লাগছে।’

ছোট শহরের এক সাধারণ ছেলের বড় স্বপ্ন বর্ণনা করে এ অভিনেতা বলেন, ‘ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক গোল্ড চ্যাম্পিয়ন মুরলিকান্ত পেটকর স্যারের চরিত্রটি রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তোলার মতো বড় দায়িত্ব আমার ওপর বিশ্বাস করে দেওয়ার জন্য কবির স্যার ও সাজিদ স্যারের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘যাত্রাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল, কিন্তু শেষ পরিণতিটা রসমালাইয়ের মতোই মিষ্টি! আমি একই সঙ্গে নম্র ও আবেগপ্রবণ অনুভব করছি।’

উল্লেখ্য, ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় নিজের অনবদ্য শারীরিক পরিবর্তন ও দুর্দান্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন কার্তিক আরিয়ান।