শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে ফেরাতে আগের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নানা ইস্যু থাকবে, তা নিয়ে আলোচনাও চলবে। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে শক্ত অবস্থানে থেকে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব রক্ষা করবে বাংলাদেশ।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরাতে গত বছর নভেম্বরে চিঠি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দুই দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরত চায় ঢাকা। তবে সেই চিঠির উত্তর আজও দেয়নি দিল্লি। ২০২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দুই দফা কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর এবার নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানালেন, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আগের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিষয়ে নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সব দেশের সাথেই তো আমাদের ইস্যু আছে। এগুলো সমাধানের জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়ভাবে এগোতে হবে। আমরা এগোব। আগেই বলেছি, সব রাষ্ট্রের সাথে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা দেখবে। যেহেতু এই প্রক্রিয়া চলমান আছে, এটি চালিয়ে নিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখতে হবে পুরো বিশ্বকে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেমন হওয়া উচিত, মেরুদণ্ড সোজা করে সব রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রেখে বন্ধুত্ব রাখা হবে। সবাইকেই ভিন্ন নজরে দেখতে হবে।’

বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশের ভিসা জটিলতা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।