আব্বা বলতেন, কখনো পলিটিক্সে যাবে না : বাপ্পারাজ

নব্বই দশকের নন্দিত নায়ক বাপ্পারাজ। চলচ্চিত্রে তার ঠোঁটে বিরহের গান আজও দর্শক-হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অভিনয়ে এখন ততটা সরব নন, তবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন তিনি। ঈদের স্মৃতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাপ্পারাজ বলেন, ‘‘ছোটবেলার ঈদে তো আব্বা ছিলেন। আমরা একসঙ্গে গরু কিনতে হাটে যেতাম। কোরবানি ঈদের দিন সকালে আব্বা গেটের সামনে বসে নিজে মাংস বিতরণ করতেন। এখানে ছোট-বড়, চেনা-অচেনা কোনো ব্যাপার ছিল না। আব্বা নিজ হাতে এটা করতেন।’’

‘‘এখন আব্বা নেই। আমি আর সম্রাট হাটে গিয়ে গরু কিনে আনি। ঈদের দিন বিকালবেলা বাসার সামনে গোশত বিলি করি। আব্বা বেঁচে থাকতে ফরমাল কিছু ব্যাপার ছিল। যেমন: বাটি করা হতো, লোকজন আসতেন। এখন এসব আর হয় না।’’

বাবা মানে নায়করাজ রাজ্জাক। বাবার সঙ্গে কাটানো বিশেষ কোনো মুহূর্তের কথা জানতে চাইলে বাপ্পারাজ বলেন, ‘‘কোরবানির ঈদে আব্বার সঙ্গে সবসময় থাকতাম। মানে প্রত্যেক কোরবানির ঈদ একইরকম, তবে ওই জিনিসগুলোই আমরা মিস করি। কারণ একটা লোক নেই। ওই জায়গাটি তো আর ফুলফিল হওয়ার নয়।’’

হাটে গরু কিনতে গিয়ে মজার ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘আব্বা মারা যাওয়ার পরে ৩০০ ফিটে গরুর হাটে গিয়েছিলাম। আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের বয়স্ক একজন আমার সঙ্গে ছিলেন। তাকে দেখে অনেকে ভেবে নেন—তিনি আমার আব্বা। অনেকে তখন বলছিলেন, ‘তার চেহারা এমন হয়েছে কেন?’ আসলে গ্রামের অনেকে জানেনই না, আব্বা মারা গেছেন।’’

বাবার কাছ থেকে জীবনে চলার পথের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সন্তান পান। ব্যতিক্রম হয়নি নায়করাজের পরিবারের ক্ষেত্রেও। বাপ্পারাজ বলেন, ‘‘আমাদের পেশাগত বিষয়ে আব্বা একটি কথা সবসময় বলতেন, কখনো পলিটিক্সে যাবে না। সেটা ফিল্মে হোক বা অন্য কোথাও। রাজনীতিকরা তোমার বন্ধু থাকতে পারেন, তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু ফিজিক্যালি মানে প্রফেশনালি তুমি কখনো পলিটিক্সে যাবে না। কারণ তুমি শিল্পী, তুমি সবার। তোমাকে যেমন ওই দলও ভালোবাসবে, এই দলও ভালোবাসবে। আর তুমি যখন একটা গ্রুপে চলে যাবে, মানে তোমার প্রফেশন রানিং অবস্থায় সংকট তৈরি হবে। যেমন: তুমি বছরে ১০টা সিনেমা করো, আবার একটা দলের হয়েও কাজ করো। তখন অপজিশন দল তোমাকে লাইক করবে না। তারা বলবে, ‘এ তো ওই দলের।’ আসলে শিল্পীদের প্রতি দর্শকদের ইমোশন এটা। ওরা ভাবে যে, এই লোকটা আমার। যেই দেখবে, লোকটাকে তার পছন্দ না, তারপরও ওই লোকটা তারও, তখন কিন্তু ওই ইমোশনটা কমে যায়; ফ্যাসিনেশনও কমে যায়।’’

‘‘আমাদের এখানে পেশাগত জায়গায় থেকে এই দল, ওই দল করে। আমার মনে হয়, এটা ঠিক না। আপনি অবসরে যাওয়ার পর যদি রাজনীতি করেন, সেটা অন্য ব্যাপার। ওটা আরেকটা ইমেজ তৈরি করে,’’ বলেন বাপ্পারাজ।

সিনেমা থেকে অনেকটা দূরে রয়েছেন বাপ্পারাজ। চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনে সভাপতির পদে লড়বেন তিনি। তাহলে কি তিনি রাজনীতিতে আসছেন? বাপ্পারাজ বলেন, ‘‘আমি রাজনীতি বুঝি না। এটা আমার কাছে খুব ক্লিন একটা জিনিস মনে হয় না। রাজনীতি আমার সঙ্গে যায় না। কারণ আমি সোজা-সাদা লোক। আমার কাছে যেটা সাদা, সেটা সাদা, যেটা কালো, সেটা কালো। কিন্তু রাজনীতিতে যখন যেটা প্রয়োজন সেটাই হতে হয়। অর্থাৎ প্রয়োজনে সাদা কালো হয়ে যায়। এই জিনিস আমার পক্ষে সম্ভব না।’’