মুখে ভুলেও দেবেন না যেসব কাঁচা সবজি

কাঁচা সবজি খাওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই। বিশেষ করে সালাদের সুখ্যাতি তো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে। কিন্তু সব রকমের সবজি কাঁচা খাওয়া একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। কিছু সবজি রান্না না করে খেলে শরীরে জীবাণু, বিষাক্ত উপাদান বা হজমের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট শুভম বাৎস্য। আবার সেই সবজিই রান্না করে খেলে তার গুণ বৃদ্ধি পায় অনেকাংশে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে চিকিৎসক এমনই তিনটি সবজির কথা বলেছেন, যেগুলো খেলে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি রয়েছে। সেই তিনটি সবজি হচ্ছে— ১. বাঁধাকপি, ২. পালংশাক এবং ৩. বেগুন। শুধু এই তিনটি সবজিই নয়, যে কোনো কাঁচা সবজির ক্ষেত্রেই তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাষ, পরিবহণ বা সংরক্ষণের সময়ে নানা ধরনের জীবাণু, ব্যাক্টেরিয়া বা পরজীবী সবজির গায়ে লেগে থাকতে পারে। তাই সালাদ তৈরির আগে সবজি ভালো করে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে হালকা রান্না করে নিলে তা নিরাপদ হয়।

জেনে নিন সেই তিন সবজির বিস্তারিত গুণাগুণ—

বাঁধাকপি :
সালাদে ব্যবহৃত হয় কাঁচা বাঁধাকপির পাতা। কিন্তু এ সবজির গায়ে নানা ধরনের বিষাক্ত কীটনাশক ও জীবাণু বাস করে। এ ছাড়া বাঁধাকপিতে ফিতাকৃমির ডিম লুকিয়ে থাকে। রান্না করে না খেলে এ উপাদানগুলো রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে থাকে। এমনকি মস্তিষ্কেও পৌঁছে যেতে পারে। ফলে নিউরোসিস্টিকারকোসিসের মতো রোগ হতে পারে। লেটুসের মতো পাতাযুক্ত সবজির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

পালংশাক :
‘পপাই দ্য সেলারম্যান’-এর মতো কার্টুনের প্রভাবে কাঁচা পালংশাকের কদর বেড়েছে বটে, কিন্তু তা শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর হতে পারে। রান্না করার পর যে শাকের উপকারিতা অঢেল, সেই শাকই যদি কাঁচা খাওয়া হয়, তাহলে তা থেকে ব্যাক্টেরিয়া এবং বিষাক্ত পদার্থ সোজা শরীরে প্রবেশ করে থাকে। ই-কোলাই এবং ফিতাকৃমির ডিম পাতার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে। ভালো করে ধুয়ে ফেলার পরও এই দূষিত পদার্থগুলো সবজির মধ্যে থেকে যায়। তা থেকে ডায়ারিয়া, পেটে সংক্রমণ ইত্যাদি হতে পারে। তাই সর্বদা পালংশাক রান্না করে তবেই খাওয়া উচিত।

বেগুন :
বেগুনে স্বাভাবিকভাবেই কিছু গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড জাতীয় উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এটি এক প্রকার প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদান, যা মূলত পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করতে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসাবে কাজ করে। বেগুনের ফলন ও সুরক্ষায় এ উপাদানের বিশেষ ভূমিকা থাকলেও এটি অতিরিক্ত পরিমাণে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রান্না করলে এসব উপাদানের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। এর পাশাপাশি বেগুন রান্না করলে হজম করাও সহজ হয়।