একটি কাগজ দিয়ে চীনা তরুণের বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি

“এক থেকে দুই, দুই থেকে তিন, তিন থেকে সবকিছু।” চীনের প্রাচীনকালের দাশর্নিক লাও জি’-র ‘সহজীয়া পথ’-এ পৃথিবী এভাবে শুরু হয়।

১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণকারী অরিগামি শিল্পী পেই হাওজেং-এর দৃষ্টিতে, অরিগামি এমন একটি শিল্প, যা অসীম সম্ভাবনায় পূর্ণ। একটি সাধারণ কাগজ দিয়ে তিনি হাজার হাজার জিনিস তৈরী করতে পারেন।

অরিগামি বৃত্তে, তিনি অনেক মানুষের মনে “মহান গুরু” – আন্তর্জাতিক অরিগামি অলিম্পিয়াডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন (“অরিগামি অলিম্পিক”), ৬টি স্বতন্ত্র স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী। তার কাজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও চমকপ্রদ, এবং বিদেশী বিচারক ও প্রতিযোগীদের কাছ থেকে প্রশংসা ও স্বীকৃতি পেয়েছে।

গেল বছরের সেপ্টেম্বরে, তিনি একটি নতুন ব্যক্তিগত রেকডর্ গড়েন। তার দুর্দান্ত অরিগামি দক্ষতা দিয়ে, তিনি ও তার চারজনের দল একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন। তারা একটি কাগজ দিয়ে সবচেয়ে বেশি ফুল (১০০) ভাঁজ করেন।
তিনি তার সর্বশেষ কাজ “হরিণের শিংয়ে শত ফুল ফুটে”-এ একই অরিগামি কৌশল প্রয়োগ করেছেন। তিনি একটি সম্পূর্ণ বর্গাকার কাগজের টুকরো ব্যবহার করে কোনো কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই একটি হরিণ বানান, যার শিংর উপর ফুটে উঠেছে ১০০টি লাল শিমুল ফুল।

কীভাবে “একটি কাগজ এবং একশত ফুল”-এর এমন একটি অরিগামি তিনি তৈরি করতে পেরেছিলেন? কীভাবে পেই হাওজেং অরিগামির পৃথিবীতে প্রবেশ করলেন এবং ধাপে ধাপে এই ক্ষেত্রে একজন “মহান গুরু” হয়ে উঠলেন?

চীনা কমিউনিস্ট যুব লীগের প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য “হরিণের শিংয়ে শত ফুল ফুটে ” শিল্পটি তিনি তৈরি করেছিলেন। সুনির্দিষ্ট গাণিতিক গণনা এবং স্থানিক ভাঁজের পরে, হরিণের মাথাটি একটি গাছের প্রতিমূর্তি এবং ৫৪টি ছুরি, তলোয়ার এবং হ্যালবার্ড-এর মত শাখা ও শিংয়ে শোভিত দেখা গেল!

শিমুল ফুল কুয়াংচৌ শহরের বিশেষ ফুল এবং কুয়াংচৌ হল একশো বছর আগে কমিউনিস্ট যুব লীগের জন্মস্থান। ১০০টি লাল শিমুল ফুল জ্বলন্ত বীরত্বপূর্ণ মশালের মতো – এটি এমন একটি ভবিষ্যত যা একজন বীরের আত্মা জীবন দিয়ে জ্বলে ওঠে এবং এটি মে ফোর্থ আন্দোলনের চেতনার চিরন্তন মশালও প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হস্তান্তরিত হয়।
এই ধরনের জটিল ও সুনির্দিষ্ট নকশা এবং গভীর ও উদ্ভাবনী ধারণার সাথে, পেই হাও জেং-এর অরিগামি কাজ অনেক প্রশংসা পেয়েছে এবং বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে তার মতে, অরিগামি তার কাছে এবং জনসাধারণের কাছে সবচেয়ে অর্থবহ যে জিনিসটি নিয়ে আসে, তা হচ্ছে “মজা” শব্দটি।

পেই হাও জেং বলেন, তিনি যখন শিশু ছিলেন, তখন তিনি বই, বন্ধুবান্ধব এবং পিতামাতার কাছ থেকে কিছু সাধারণ কাজ যেমন কাগজের পাখি ও নৌকা ভাঁজ করতে শিখেছিলেন। অরিগামির প্রতি তার আগ্রহ এবং প্রতিভা আবিষ্কার করার পর, পেই হাও জেং গভীরভাবে অধ্যয়নের জন্য ধীরে ধীরে আরও কিছু পেশাদার বই অধ্যয়ন করেন। তিনি দেখতে পান যে, অরিগামি শিল্প তার প্রথম কল্পনার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা-এটি একটি অত্যন্ত গভীর বিষয়, যা গণিত, জ্যামিতি, উপকরণ এবং এর পিছনে থাকা অন্যান্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।

ধীরে ধীরে, অরিগামির প্রতি তার ভালবাসা জন্মে এবং বিশেষ গবেষণার মাধ্যমে, পেই হাও জেং অরিগামি বিশ্বে তার চিহ্ন তৈরি করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখেন। তার কাজের অনেক ক্ষেত্রে তিনি চীনা সংস্কৃতি এবং কৌশল একীভূত করেন। তিনি অরিগামি ব্যবহার করে ঐতিহ্যগত চীনা সংস্কৃতির প্রতি তার ভালবাসার গল্প বলার চেষ্টা করেছেন।

তিনি একবার বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ধুরা অরিগামি ডিজাইনের পিছনের চীনা সাংস্কৃতিক ধারণা আবিষ্কার করতে পারেন। যেমন, শান্তির জন্য আবেদন, একটি উন্নত জীবনের অন্বেষণ এবং চীনা সংস্কৃতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হিসাবে সৌন্দর্য ও শান্তির আধ্যাত্মিক অর্থ।

ভবিষ্যতে তিনি অরিগামির মাধ্যমে আরও বেশি লোককে চীনা সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। তিনি আশা করেন যে, চীনা শৈলীর সাথে আরও অরিগামি কাজ করবেন, যাতে চীনা সংস্কৃতিকে আরও ভালভাবে উপস্থাপন করা যায়। তিনি আরও আশা করেন যে, তার কাজ দেখে আরও বেশি তরুণ অরিগামি শিল্পের প্রতি আগ্রহী হবে।


Discover more from Priyo Bangla 24 - Most Popular Bangla News

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

About প্রিয় বাংলা ২৪

প্রিয় বাংলা ২৪ একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাংলা নিউজ পোর্টাল, যা জাতীয় ও স্থানীয় সর্বশেষ খবর, প্রযুক্তি বিষয়ক টিপস এবং শিক্ষামূলক কনটেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ ও তথ্য সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং পাঠকবান্ধবভাবে উপস্থাপন করে।