‘নির্ভয়া’ শুধু একটি ঘটনা ছিল না, এমন প্রতিদিনই ঘটছে

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি অভিনীত ‘মারদানি ৩’ ভারতে ৬০ কোটি রুপি আয় করেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ৯০ কোটি রুপি। আর সেই সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা।

নারীপ্রধান গল্প নিয়ে নির্মিত অ্যাকশন–ড্রামা সিনেমার এই সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিনেত্রী রানী মুখার্জি।

সম্প্রতি নারী দিবস কেন্দ্র করে একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে সিনেমাটির সাফল্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রানী মুখার্জি বলেছেন, ‘মারদানি ৩’ এত বড় পরিসরে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছে—এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

বক্স অফিসের আলোচনায় এখন তথাকথিত আলফা মেল চরিত্রের আধিপত্য দেখা যায়। সেই সময়ে এ সাফল্য প্রমাণ করে, নারীকেন্দ্রিক সিনেমারও শক্তিশালী দর্শক আছে। আশা করি, ইন্ডাস্ট্রি বিষয়টি লক্ষ করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গল্প তৈরি হবে।

এ সাফল্যকে কেবল বক্স অফিসের সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না রানী মুখার্জি। তিনি বলেন, এটি ইন্ডাস্ট্রিকে বার্তা দেয়, ভালো গল্প ও শক্তিশালী নারী চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্র নায়ককেন্দ্রিক ছবির পাশে সমানভাবে দাঁড়াতে পারে। নারীকেন্দ্রিক গল্পে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি নয়, বরং বড় সুযোগ।

এর আগে ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মারদানি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু হয়। সেই সময়কার প্রেক্ষাপটের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, যখন আমরা ‘মারদানি’ বানিয়েছিলাম, তখন এটিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি বানানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না। নির্ভয়া ঘটনার পর যে রাগ ও ক্ষোভ আর অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই এ সিনেমার জন্ম।

একজন মা হিসেবেও বিষয়টি গভীরভাবে তাকে নাড়া দিয়েছে বলে জানান রানী মুখার্জি। তিনি বলেন, মা হওয়ার আগে আর এখনকার আমার মধ্যে অনেক পার্থক্য। মা হওয়ার পর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়, উদ্বেগও বেড়ে যায়। সন্তানকে নিয়ে, আপনজনকে নিয়ে—এমনকি নিজেকে নিয়েও এক ধরনের ভয় সব সময় কাজ করে থাকে।

অভিনেত্রী বলেন, তবে ‘মারদানি’ তাকে নতুন শক্তি দেয়। যখন মেয়েরা বলে— এই সিনেমা দেখে তারা নিজেদের শক্ত মনে করেছে, তখন মনে হয়— আমরা ঠিক পথেই আছি।

শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে রানী মুখার্জি বলেন, আমি সবসময় ভালো গল্পের খোঁজ করি। ভারতীয় নারীরা নানাভাবে শক্তিশালী—কখনো তারা পড়াশোনা করছে, কখনো সংসার সামলাচ্ছে, কখনো পেশাজীবনে দায়িত্ব পালন করছে, আবার কখনো ইউনিফর্ম পরে দেশের সেবা করছে। আমি চাই পর্দায় সেই শক্তিটা ফুটে উঠুক। রোমান্টিক গল্পেও নিজেকে দেখতে চাই। ভালোবাসা আর অনুভূতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান এ অভিনেত্রী।

রানী মুখার্জি বলেন, আমার কাছে মারদানি ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য মানে ভারতীয় সিনেমায় নায়কের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত হওয়া। ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এমন সাফল্য জরুরি, যেখানে একজন নারীও গল্পের অগ্রভাগে থাকবে।

শিবানি শিবাজি রায়কে কোনো কিছুর নারী সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, একজন নায়ক—যার পরিচয় সততা, সাহস ও সহমর্মিতা। তিনি তার পুরুষ সহকর্মীদের সমান। দর্শক তার গল্পকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাতে বোঝা যায়— মানুষ এমন গল্পের জন্য প্রস্তুত, যেখানে একজন নারী শুধু আবেগের জায়গা থেকেই নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেন।

নারীর নিরাপত্তা ও সমাজের বাস্তবতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রানী মুখার্জি বলেন, ‘নির্ভয়া (২০১২ সালে ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে নৃশংস গণধর্ষণের শিকার ২৩ বছর বয়সি শিক্ষার্থীর ছদ্মনাম) শুধু একটি ঘটনা ছিল না। এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। সমাজ খুব দ্রুত বড় ঘটনাগুলো ভুলে যায়, আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

টানা তিনটি সিনেমাতেই মারদানি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সফলতার ধারায় রেখেছেন অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। ১২ বছর ধরে দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দর্শক শিবানি শিবাজি রায়ের সঙ্গে ১২ বছর ধরে যুক্ত আছেন। কারণ তিনি এমন এক শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক, যা নারীদের এবং বৃহত্তর সমাজকে অনুপ্রাণিত করে।

অভিনেত্রী বলেন, সাহস মানে জোরে গর্জন করা নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থানে অটল থাকা। হয়তো এ কারণেই শিবানি এত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।


Discover more from Priyo Bangla 24 - Most Popular Bangla News

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

About প্রিয় বাংলা ২৪

প্রিয় বাংলা ২৪ একটি দ্রুত বর্ধনশীল বাংলা নিউজ পোর্টাল, যা জাতীয় ও স্থানীয় সর্বশেষ খবর, প্রযুক্তি বিষয়ক টিপস এবং শিক্ষামূলক কনটেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ ও তথ্য সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং পাঠকবান্ধবভাবে উপস্থাপন করে।